প্রমথ রায়

আগামী ২৩ শে ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যফন্ট নির্বাচনকে বানচাল করতে নানারকম অপকৌশল হাতে নিয়েছে, যেটা গতবার বিএনপির জোট চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে! গতবারের ন্যায় এবারও  তাদের আচরন একই রকম শুধু সংলাপের নামে কালক্ষেপণ মাত্র। 

গতবারের বিএনপির জোট আর এবারের কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট একই গাছের দুটি ফল মাত্র, গতবারের টা ছিল কিছুটা কাঁচা, এবারের টা কিছুটা পরিপক্ক তাই গতবারের ন্যায় এবার তাঁরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবে!

কাঁচা এই কারনে বললাম, গতবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দশম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সংলাপের জন্য ততকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম জিয়াকে টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, বাকিটুকু আপনাদের সবার জানা! এমনকি নির্বাচনী সরকারের তাঁদেরকে পছন্দমত মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল! 

রাজনৈতিক অপরিপক্কতার কারনে সেই ট্রেন মিস করে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে সারাদেশে নাশকতামূলক অগ্নি সন্ত্রাসে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিলেন, যার ফল গত পাঁচটি বছর তারা ভোগ করলেন! 

আর এবার ফলটা একটু পরিপক্ক এই কারনে বললাম ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জোট সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বরাবর লিখিত আবেদন করলেন এবং সংলাপের তাঁর জোট নেতাদের নিয়ে অংশগ্রহণ করলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে খোলামেলা আলোচনা হলো কিন্তু তাদের এই সংলাপ ছিল অপকৌশলের অংশবিশেষ, তাদের সাত দফা উপস্থাপন করলেন,তাদের সাত দফার জবাব আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরলেন, 

যেমন ১ . বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে শেখ হাসিনার পরিস্কার ব্যাখ্যা হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে কি সরকারের হস্তক্ষেপ করা আইন সম্মত জবাবে ড.কামালের জোট নিরব। 

২.সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রশ্নের প্রধানমন্ত্রী বললেন আপনারাই বলেন সংসদ ভেঙে দিয়ে কাকে সরকার প্রধান করবেন, একজনের নাম বলুন  এই প্রশ্নের জবাবেও তারা চুপ।

 ৩ . নির্বাচনকালীন সরকারে তাঁরা দশ সদস্যের উপদেষ্টা নিয়োগ অর্থাৎ তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানায় এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের কোন আলোকে এটা সম্ভব এটা তাদেরকে প্রশ্ন করলে এটাতেও তারা নিশ্চুপ। 

তাদের বাকি দফা গুলো যেমন সভা সমাবেশ,নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক, সেপ্টেম্বরের পরবর্তী তাদের দলীয় নেতাকর্মীর কিছু মামলা নেওয়ার যাচাইকৃত করে অব্যবহিত দেওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষই সম্মতিজ্ঞাপক। 

আমার কথা ড.কামাল হোসেন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান আইনজীবী এবং বাংলাদেশের ৭২ সংবিধানের চেয়ারম্যান তিনি কেন এই সকল সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী নয় এমন দাবি নিয়ে সংলাপে অংশগ্রহণ করলেন। 

এটা এখন পরিস্কার তিনি আসলে লোক দেখানো সংলাপ করতে চেয়েছেন এবং ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী হয়তো সংলাপে রাজি হবেন না, আর এটা নিয়ে দেশ বিদেশে রাজনৈতিক বক্তব্য বলবেন যে সরকার প্রধান আমাদের সাথে সংলাপ করতে চান না। ড.কামালরা বোকার স্বর্গে বাস করে ৮১ সালের শেখ হাসিনাকে তারা ২০১৮ সালে মিলাতে চায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে কত পরিপক্ক তা হয়তো ড.কামালরা ভুলতে চলছেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয় পৃথিবীর কোথাও কোন রাষ্ট্রে হয়তো এই নাটক হয়নি, যে সরকারি দল নির্বাচন দিতে চায় আর বিরোধী দলরা নির্বাচন পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে চায়! সুতরাং তারা কি চায় বাংলাদেশের জনগণের আর বোঝার বাকি নেই, তারা নির্বাচন পেছানোর নামে অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়!

তাদের এই চাওয়া একযোগে সতেরো কোটি জনগন আগামী ২৩শে ডিসেম্বর ভোটে অংশগ্রহণ করে ধুলোস্বাদ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি! সুতরাং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় থেকে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সতর্কতা অবলম্বন করে সজাগ থাকতে হবে! সকল প্রকার ব্যথা ভুলে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান নিতে হবে! 

জয় বাংলা, 

জয় বঙ্গবন্ধু, 

২৩শে ডিসেম্বর সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন।

লেখক: সদস্য, বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।