মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণ করা হচ্ছে সৌন্দর্যময় নান্দনিক উপজেলা শিশু পার্ক। এতে শোভা পাচ্ছে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল। পার্ককে ঘিরে শিশু ও অভিভাবকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন খেলনার পাশাপাশি মেধা বিকাশের নিমিত্ত পরিকল্পিত ভাবে সাজিয়ে নির্মাণ করা করছেন বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল। পার্কের বিভিন্ন স্থানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সেবা গ্রহীতাদের জন্য বক চত্বর সহ বসার জন্য করছেন টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ। পার্কে শিশু ও দর্শনার্থীরা শুধু বিনোদন ও ঘোরাই নয় হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পশু-পাখির ছবির সাথে পরিচিত ও শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারবেন।

সরেজমিনে পার্কে ঘুরে দেখা যায়, পার্কে প্রবেশের সময় শিল্পী ও ফটোগ্রাফারের ম্যুরাল আগতদের ছবি তুলছে আর সম্ভাধন জানাচ্ছে। পার্কের মাঝে ২টি হরিন দাঁড়িয়ে আছে আর তাদের ১টি বাচ্ছা ঘাস খাচ্ছে। তার পূর্বে ৫টি বক দিয়ে নির্মিত বক চত্বরের পার্শ্বে রয়েল বেঙ্গল টাইগার মুখ হা করে হরিণের দিকে তাকিয়ে আছে। পশ্চিম-উত্তর দিকে আড়াআড়িভাবে সাজানো রয়েছে হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, প্রজাপতি ও সিংহের ম্যুরাল। উত্তর-পূর্ব দিকে উটপাখি, ক্যাঙ্গারু ও ছবি তোলার জন্য নির্মিত রাস্তার দু’পাশে দুটি পেঙ্গুইন। পূর্ব দিকে ড্রাগন ও ডাইনোসর মুখোমুখি অবস্থানে। তাদের সামনে কলা খাওয়া অবস্থায় বানর ও স্যালুট অবস্থানে গরিলা। বানর ও গরিলার দক্ষিণ পার্শ্বে আড়াআড়িভাবে ৩টি জেব্রা। পূর্ব-দক্ষিণ হয়ে পশ্চিমের দিকে গাছের নিচে সাজানো মুখোমুখি অবস্থানে সাদা ও লালচে কালারের ৪টি সারোস , ডালের নিচে বসা ৪টি টিয়া , পাখা মেলে বসে আগে ২টি ময়ুর, ১টি হাঁসের কার্টুনের বাদ্যযন্ত্র বাঁজানোর তালে তালে নাচ অবস্থায় ২টি হাঁসের কার্টুন, জাতীয় পাখি দোয়েল ও বড় হাতির মুখের দিকে তাকিয়ে ছোট হাতির বাচ্ছা। এছাড়াও নির্মাণ করা হচ্ছে ডান মেলে উড়ন্ত ঈগল পাখির ম্যুরাল।

পশু-পাখির সমারোহ ছাড়াও শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে দোলনা, রাউন্ড দোলনা, ঘোড়া রাউন্ড দোলনা, স্লিপার। ঘুরার জন্য রয়েছে সৌন্দর্যময় টাইলসের রাস্তা। আর বসার জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ।

উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ছুটির দিনে ও অফিস করে অবসর সময়ে পার্কে গেলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মনটা আনন্দময় হয়ে উঠে। বিকেলের দিকে বাচ্ছাদের নিয়ে খেলাধুলা করা যায়। এরকম একটি নান্দনিক শিশু পার্ক গড়ে তোলার জন্য ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

আগত দর্শানার্থীরা জানান, শিশুপার্কের নতুন নতুন স্থাপনা ও ম্যুরাল দেখে অনেক ভাল লাগছে। এখানে শিশুদের পাশাপাশি আগত সেবাগ্রহীতা ও দর্শানার্থীরা অবসর সময় কাটাতে পারবে। এতে সকলের ভালই লাগবে। একজন মানুষ সুন্দর মানসিকতার মানুষ না হলে এরকম উদ্যোগ করতে পারে না। তাই এমন সুন্দর একটি উদ্যোগ গ্রহন করায় ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, মূলত শিশুদের শারিরীক ও মানষিক বিকাশের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ধরনের একটি পার্ক তৈরির উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এ শিশু পার্কে বিভিন্ন প্রাণীর ম্যুরাল ও রাইড স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো কিছু নতুন নতুন রাইড স্থাপন করা হবে। এ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি এর নির্মাণ কাজ যখন শেষ হবে উপজেলার বিভিন্র প্রান্ত থেকে শিশুরা আগমন করে সুন্দর সময় কাটাতে পারবে। তাদের শারিরীক ও মানষিক বিকাশে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে আগত সেবাগ্রহীতারাও অবসর সময় কাটাতে পারবে ও পার্কে বিচক্ষণ করে মানষিক প্রশান্তি অনুভব করবে বলে আশা করি।