নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনাজপুরের খানসামায় কুতুবডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে কেন্দ্র করে এক অভিভাবকের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ হয়েছে।

খানসামা থানা বরাবর অভিযোগসূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামে কুতুবডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে পক্ষ নেওয়ায় ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৯ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যার পর শ্যামল চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির উঠানে ধারালো অস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা করেন একই গ্রামের কাজল বিশ্বাসের ছেলে মানিক বিশ্বাস, মৃত সুরেন বিশ্বাসের ছেলে সুবাস বিশ্বাস, হরেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে রয়েল বিশ্বাস, প্রফুল্ল বিশ্বাসের ছেলে উৎপল বিশ্বাস, সুবাস বিশ্বাসের ছেলে সুমন বিশ্বাস সহ ১০/১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। হামলাকারীরা শ্যামল বিশ্বাস ও তার স্ত্রী রনজিতা বিশ্বাসকে লাঠি দিয়ে বেপড়োয়া ভাবে মারধর শুরু করলে তারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে প্রধান গেট বন্ধ করে দিলে হামলাকারীরা তার গেট ভাঙ্গচুর করার পর তার ভাই প্রভাস চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে প্রবেশ করে তার বউদি দিপ্তী বিশ্বাসকে বেপড়োয়াভাবে মারধর শুরু করে। তার ভাতিজি অষ্টমী বিশ্বাস ও দ্বিতি বিশ্বাস বউদিকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে এবং অষ্টমী বিশ্বাসের গলার আট আনা সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়। এরপর হামলাকারী সুবাস বিশ্বাস তার বউদির চুলের মুঠি ধরে মুখমন্ডলে মারধর করে টানা হেঁচড়া ও ধস্তাধস্তি করে হাতের শাখা ভেঙ্গে দিয়ে মাটিতে ধেদুড়িয়া পড়নের শাড়ি ব্লাউজ ছিড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এই ঘটনার মধ্যেই অপর দুই হামলাকারী মানিক ও সুমন বিশ্বাস ঘরে ঢুকে বিছানার বালিশের নিচে রাখা গচ্ছিত এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়ে ঘরের বাইরে এসে মানিক বিশ্বাস জোড়পূর্বক ও অসৎ উদ্দেশ্যে ভাতিজি অষ্টমী বিশ্বাসকে কাঁধে তুলে অপহরণের চেষ্টা করলে বউদি ও ছোট ভাতিজি দ্বিতি তাকে রক্ষা করে। শেষে হামলাকারীরা বাড়ির উঠানে থাকা খড়ের টাইলে আগুন লেগে তা পুড়ে দেয়। শ্যামলের চিৎকার ও খড়ের আগুন দেখে স্থানীয় প্রশাসন সহ এলাকাবাসী তাদের রক্ষা করে এবং হামলাকারীদের প্রতিহত করে। এমতবস্থায় ঘটনার মাঝেই হামলার স্বীকার শ্যামল বিশ্বাস ঘরে থাকা অবস্থায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে খানসামা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ স্বাভাবিক করে।

খানসামা থানা অফিসার ইনচার্জ আঃ মতিন প্রধান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।