মোহাম্মদ মানিক হোসেন :

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের খামার পাড়ার এক ব্যক্তি কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে টিনের বাড়ি তৈরী করে পানি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৫০০ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানিতে তলিয়ে যায় প্রায় ২০০ একর আবাদি জমি।

পানিবন্দি মানুষের খবর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দীকা ঘটনাস্থল গিয়ে কালর্ভাটটির মুখ খুলে ড্রেন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এতে এলাকাবাসী ভবিৎষতে পানিবন্দি থেকে রক্ষা পায়।

জানা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের খামার পাড়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুস সাত্তারের পূত্র আজাহার আলী ও তার ছোট ভাই সোহেল রানা বাবু বৃষ্টির পানি নিষ্কাসিত হওয়ার একমাত্র কালভার্টের মুখটি মাটি ভরাট করে একরাতেই লোকজন লাগিয়ে টিনের বাড়ি তৈরী করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মান করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাসিত হওয়ার রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

এতে ওই এলাকার বাসুদেবপুর,জয়দেবপুর,শ্যামনগর গ্রামের প্রায় দুই’শ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়” পানিবন্দি হয় প্রায় ৫০০ পরিবারের ১ হাজার মানুষ। এছাড়া চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ১০থেকে ১৫টি রাস্তা বেশিরভাগ সময় পানি ও কাঁদা জমে থাকে। বিষয়টি নিয়ে এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগপত্রও দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দীকা ও অমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল সরকার সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই টিনের বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থ্যা করেন। এছাড়াও এলাকাবাসী জানান, পূর্বে এই এলাকায় পানি ওই কালভার্ট দিয়ে বের হয়। সেখানে স্থানীয় একজন বাড়ি তৈরী করে কালভার্টটি বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দীকা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমরপুর ইউনিয়নের সোহেল রানা বাবু নামে এক ব্যাক্তি কালভার্টের পানি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত আমি ঘটনস্থলে যাই। গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। সেখানকার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জনস্বার্থে কালভার্টের মুখ খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা করি। আগামীকাল থেকেই সেখানে ড্রেনের কাজ করা হবে।