মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

“এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে”- প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরপরই দিনাজপুরের খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন করোনায় সম্মুখ যুদ্ধে অবদান রাখা ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পতিত জমিতে সবজি বাগান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমানে বাগানে শোভা পেয়েছে প্রায় ৩০ ধরনের সবজি। সেই বিষ মুক্ত সবজি তিনি নিজে ও পুলিশ সদস্যদের মেচেই রান্না করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় এই থানার সবজি বাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িযে পড়লে অনেকে দেখতে আসছেন এবং সবজি বাগানে উৎসাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থানার পিছনে পরিত্যাক্ত প্রায় অর্ধএকর (পঞ্চাশ শতাংশ) জমিতে অবস্থিত সবজি বাগানটি। সবজি বাগানটিতে বেগুন, বরবটি, শশা, জিঙ্গে, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, ঢেরস, পেপে, লালশাক, ডাটা শাক, কলমি শাক, কচু, হলুদ, আদা, লেবু, পুদিনাসহ প্রায় ৩০ রকমের সবজি চাষ করা হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি থানা ভবনের পাশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফলের চারা রোপন করা হয়েছে।

এসআই তন্ময় দেবনাথ বলেন, করোনা কালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে ওসি কামাল হোসেন স্যারসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত সবজি বাগানের পরিচর্যা করি। আমরা এই বাগানে বিষমুক্ত সবজি নিজেরাই চাষ করে খেতে পেরে বেশ খুশি। এরকম সবজি বাগান যাতে প্রতিটি থানায় করা হয় এমনটাই আশা করেন তিনি।

খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে- প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরপরই পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন পিপিএম বিপিএম বারের অনুপ্রেরণায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) ওয়ারেস হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় থানার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সবজি বাগানটি করা হয়েছে। আগামীতে সবজি বাগানের পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও পতিত জায়গা যেন কেউ ফেলে না রাখে এবং বিষমুক্ত সবজি বাগান করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, সবজি বাগানের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। দেশের সরকারী-বেসরকারী অফিসসহ বাড়ির আশপাশে পতিত জায়গায় এমন সবজি বাগান করলে সবজি চাহিদা অনেকটাই পূরন হবে।