মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর জনপদের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর পর এবার দিনাজপুরের খানসামায় শুরু হয়েছে চা আবাদ। এমনকি এরই মধ্যে এ উদ্যোগে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মমিনুর ইসলাম। এতে উপজেলায় তৈরি হয়েছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। পাহাড়ি ঢালু বা উঁচু ভূমি চা চাষের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু দিনাজপুরের খানসামা সমতলে চা চাষ! অসম্ভব এই বিষয়টি সম্ভব করে দেখিয়েছেন চা বাগানটির মালিক মমিনুর ইসলাম। তিনি পঞ্চগড়ে একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরি করেন। দেশের অন্যান্য জেলায় চা চাষ করা গেলে নিজ উপজেলায় কেন নয়? দুই বন্ধুর এমন কথা বেশ মনে ধরে মমিনুরের। সিদ্ধান্ত নেন নিজ উপজেলায় চা চাষ করবেন তিনি। শুরুটা তখন থেকেই।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার অবস্থান হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় এ এলাকায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপজেলায় চা চাষ করে যে উৎপাদন হচ্ছে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদানও রাখছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের পর সমতলে চা চাষের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

আজ বুধবার সরেজমিনে উপজেলার প্রথম চা বাগান সহজপুর গ্রামে যেয়ে দেখা যায়, চা বাগান মালিক মমিনুর ইসলাম, তার বাবা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক চায়ের পাতা সংগ্রহ করছেন। চা বাগান নিয়ে মমিনুর ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে চাকুরি করতে গিয়ে চা চাষ দেখে উদ্ভুদ হয়ে দুই বন্ধুর পরামর্শে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলায় প্রথম এক একর জমিতে চা চাষ শুরু করেন। এতে জমি প্রস্তুত, বীজ, শ্রমিক মিলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়। এরপর প্রথম ৬ মাসের প্রতিমাসে স্প্রে, নিড়ানি ও সার দিতে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এরপর গাছ বড় হওয়ার পর এখন প্রতিমাসে ৯/১০ হাজার টাকা খরচ হয়। চা বাগান করার ৬ মাস পর প্রথম এক কেজি চা পাতা সংগ্রহ হয়েছিল। তবে এবছর প্রথমে ৩০০ কেজি, দ্বিতীয়তে ৯৩০ কেজি এবং শেষে বুধবার ২০০০ কেজি চা পাতা ১৪ টাকা কেজি দরে দেবীগঞ্জ পপুলার চা কারখানায় বিক্রি করেন। বাগান থেকে ৩৫-৪০ দিন পর পর চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চা পাতা সংগ্রহের পরিমাণও বাড়বে। প্রতি মাসেই চা পাতা বিক্রি করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, চা চাষের উপযোগী এ মাটিতে গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে এজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খরার সময় পাইপের সাহায্যে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করেছেন। চা গাছে নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত পানি সেচ, জৈব সার ব্যবহার করেন তিনি। একবার চা বাগান করলে সেখান থেকে ৮০-১০০ বছর চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। যা নিঃসন্দেহে লাভজনক। তাই তিনি উপজেলাবাসীকে চা চাষ করার আহবান জানিয়েছেন।

আর ধান চাষের জমিতে চা বাগান দেখে এলাকার মানুষ উৎসাহী হয়ে অনেকে চা আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রাজিব ইসলাম আত্রাই নদীর কোল ঘেষে ৪ মাস আগে ৩ একর জমিতে চা চাষ শুরু করেছেন। এছাড়াও নেউলায় দুটি পরিবার ও পাকেরহাটের বাসিন্দা রুপালী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার ঐশী চৌধুরীসহ অনেকে চা বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, হিমালয়ের পাদদেশে খানসামা উপজেলার অবস্থান হওয়ায় এ এলাকায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত। চা গাছ নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত পানি সেচ দিতে এবং যত্নবান হতে হবে। এ অঞ্চলে দুজন চা চাষে এগিয়ে এসেছেন। এটা লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।