মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গত ২০ বছর ধরে খাস-খতিয়ান রেকর্ডকৃত একটি কবরস্থান দখল করে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নেউলা ফকিরপাড়া এলাকার জনসাধারন নেউলা মৌজার ২২ নং দাগের ৩৪ শতক খাস খতিয়ান জমি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করেছিল। যা কবরস্থান হিসেবে রেকর্ডও রয়েছে। কিন্তু গত ১৯/২০ বছর পূর্বে একই এলাকার মকছেদ আলী ও একরামুল হক জোর দখল করে চাষাবাদ করেন। এতে ঐ এলাকার অসহায় ভূমিহীন পরিবারের কেউ মারা গেলে কবর অন্যের কাছে জায়গা নিয়ে কবর দিচ্ছে। কবরস্থানটি উদ্ধারের জন্য নেউলা ফকিরপাড়া জামে মসজিদ কমিটি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন। পরে শুনানিতে দখলকারী সেই কবরস্থান ছেড়ে দিবে বলে অঙ্গিকার করেন। কিন্তু সেই অঙ্গিকার ভঙ্গ করে তারা আবারো নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেন।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি পশু চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সকলের অনুরোধে কবরস্থানটি উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালাই। প্রথমে কমিটির পক্ষ থেকে দখলকারীদের কবরস্থানটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তারা ছেড়ে না দেওয়ায় ইউএনও স্যারকে অবগত করি।শুনানিতে দখলকারীরা কবরস্থানটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অঙ্গিকার করেন। কিন্তু পরে অঙ্গিকার ভঙ্গ করায় আবারো ইউএনও স্যারকে অবগত করি। আবার শুনানিতে দখলকারী আত্বসমর্পন করেন। এভাবেই তিনি শুনানিতে অঙ্গিকার করে বাড়িতে এসে আবারো তা ভঙ্গ করেন। এজন্য মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ কবরস্থানে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়। পরবর্তীতে দখলকারীরা যেন আবারো কবরস্থানটি দখল করতে না পারে এজন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কবরস্থান দখলকারী মকছেদ আলী বলেন, কবরস্থানটি যে তাদের দরকার সেটা কখনো আমাদের বলে নি। বললে স্বেচ্ছায় দিয়ে দিতাম। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঐখানে যাওয়ার কোন দরকারই ছিল না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, কোনভাবেই দখলকারীরা আর সেই কবরস্থান দখল করে চাষাবাদ করতে পারবে না। এজন্য কমিটিকে কবরস্থানটি সীমানা নির্ধারন করে বেড়া দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপরও যদি দখলকারীরা দখল ছেড়ে না দেয় তাহলে তাদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।