মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলার দুই হাজার হেক্টর আবাদি কৃষি জমির পানি নিষ্কাসিত হওয়া ক্যানেলে কৃত্রিমভাবে বাঁশের বাঁধ (হোকোশ) ভেঙে দেওয়ায় স্তস্তি পেয়েছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, পানি আটকে রাখার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর পরই আজ সোমবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলমের নির্দেশনায় চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা সরেজমিনে গিয়ে সাইতাড়া ইউনিয়নের খোচনাগ্রামের বানপাড়ার সব চেয়ে বড় বাঁশের বাঁধটি (হোকোশ) ভেঙে দেন। এর পাশাপাশি সেই বাঁধের আগে ও পরে ছোট বড় ১১টি বাঁশের বাঁধ অতিদ্রুত তুলে দেওয়ার জন্য সাইতাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন শাহ্কে নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বড় বাঁশের বাঁধের মালিক গোলাপ হোসেন (৩২) কে এরকম কাজ যাতে পরবর্তীতে আর না করে এজন্য তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খানসামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দীন লুহিন শাহ্ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার রায়।

জানা গেছে, কৃত্রিম বাঁশের বাঁধের ফলে চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার প্রায় দুই হাজার হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ৫/৭ বছর ধরে এ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণের ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় দু’উপজেলার প্রায় ১২-১৪ হাজার কৃষক বছরে এক বার শুধু বোরো ধান চাষ করে। ফলে জমি থাকা সত্বেও অনেকে আমন ধান আবাদ করতে না পেরে কষ্টে জীবনযাপন করছে।

এই পানি খানসাসা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের চান্দেরদহ কালভার্ট দিয়ে ইছামতি নদীর পানি মারগাঁও গ্রামের চাতারা দোলা ও কুমড়িয়া গ্রামের পুকরের দোলা দিয়ে প্রবেশ করে তা বকশিকুড়া দোলায় (কান্দর) ও পরে তা ভাবকীর শালমারা দোলা দিয়ে দুটি কার্লভার্ট হয়ে চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রাণীরবন্দর-ভূষিরবন্দর মহাসড়কের দুই পাশের দোলা দিয়ে তা নশরতপুর গ্রাম হয়ে ফকিরপাড়া দোলা দিয়ে ফকিরপাড়া ক্যানেলে এসে পড়ে। এই ক্যানেলটি সাইতাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে চিরিরবন্দর সদর হয়ে কারেন্টহাট নামক স্থানে আত্রাই নদীতে পৌঁছে।

এ ব্যাপারে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষনিক ভাবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাঁধ গুলো তুলে দেওয়ায় এলাকাবাসী খুশী হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানার পর চিরিরবন্দর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সরেজমিনে দেখে বাঁধ গুলো ভেঙ্গে দেয় এবং মূল হোতার মুচলেকা নেওয়া হয়। বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিনি সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।