মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নং খামারপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদ ইসলামকে এক প্রতিবেশি নারীকে হত্যাচেষ্টায় মামলায় আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ

মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা যায়, খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাউরা পাড়ার আঃ আহাদ বিপ্লবের স্ত্রী খাদিজা বেগমকে পূর্ব শত্রুতার জেরে গত রবিবার বিকেলে ইউপি সদস্য রাশেদ ইসলাম ও তার মা-বোন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঐ নারীকে মেরে ফেলার উদ্যেশে মারপিট করেন। এতে ঐ নারীর দুই পায়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। প্রতিবেশীরা ঐ মহিলাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঐ মহিলার এক পায়ের গোড়ালির দিকে হাড় ফেটে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম.আঃ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে ঐ নারীর স্বামী বাদী হয়ে খানসামা থানায় অভিযোগ করলে ইউপি সদস্য রাশেদ ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, ঐ নারীর সাথে ইউপি সদস্যের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা ছিল। তবে গত কয়েকদিন আগে ঐ নারীর ছেলে ঢাকা থেকে আসলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজনকে এনে ইউপি সদস্য ঐ নারীর বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় এলাকায় আরো কয়েকজন ঢাকা থেকে বাসায় এসে বেপড়োয়াভাবে চলাফেরা করলে ঐ নারী ইউপি সদস্যকে তাদেরকেও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য ও তার মা-বোন ঐ মহিলার ওপর আতর্কিত হামলা করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন বলেন, ঐ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকটি মামলা রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে করোনাকে কেন্দ্র করে ঐ নারীকে তিনি এভাবে বেপড়োয়াভাবে মারতে পারেন না। এ ঘটনায় ঐ নারীর স্বামী থানায় মামলা করলে ১ নং আসামী ইউপি সদস্য রাশেদ ইসলামকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে  পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ইউপি সদস্যের মা ও বোনকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।