মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর সংক্রমণকালে সামগ্রিক কৃষি খাত সচল ও গতিশীল রেখে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১৪ প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)।

সংগৃহিত

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর মহাসচিব কৃষিবিদ মোঃ খায়রুল আলম প্রিন্স ও সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্যাডে ২৯১৮ নং স্মারকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বর্তমান করোনা সংকট পরিস্থিতিতে আপনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রসহ সকলেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও যার যার সাধ্যমত বিভিন্ন খাতে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে এবং তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। করোনার কারণে আজ নানাভাবে আমাদের কৃষির সকল খাতই হুমকির মধ্যে পড়েছে। মাঠের ফসল সংগ্রহ, উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে শাক-সবজি ফলমূল ইত্যাদি বাজারজাতকরণ, ফসলের পরিচর্যা, ফসল, প্রাণি ও মৎস্য উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ, সরবরাহ, বিতরণ ও বাজার তদারকি, প্রণোদনা কর্মসূচির কৃষক তালিকা তৈরি ও বাস্তবায়ন, কৃষিজ পণ্যের সরবরাহ শৃংখল চালু রাখা, সময় সময় জরুরি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে চলমান ত্রাণ কার্যক্রমেও ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ। এ সংকট কালে আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে কৃষিজ উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে নিম্নেবর্ণিত প্রস্তাবনাসমূহ আপনার সানুগ্রহ দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি:-

১। আপনার ঘোষিত কৃষি প্রণোদনার অর্থ বিনিয়োগের জন্য গ্রামীণ পর্যায়ে উদ্যোক্তা কৃষক বাছাইয়ের কাজ ও কৃষির উপখাতসমূহের স্ব স্ব বিভাগের মাধ্যমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে প্রকৃত উদ্যোক্তা কৃষকের ঋণ প্রাপ্তি সহজ হবে এবং বিভাগীয় প্রযুক্তিগত সেবায় ফসল, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যসহ অন্যান্য খাতে গৃহীত পদক্ষেপে সাফল্য আসবে।

২। কৃষি জাত পণ্যের ঝুঁকিমুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়াসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলাপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কৃষিপণ্য পরিবহণ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক পর্যায়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে কৃষিজাত পণ্য সরবরাহের দায়িত্ব কৃষি/প্রাণি/মৎস্য বিভাগসমূহ সম্মিলিতভাবে পালন করতে পারে। সরবরাহ শৃংখল সক্রিয় রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরাধীন অব্যবহৃত পরিবহণ ট্রাকও এ কাজে ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

৩। বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সংকটকালীন সময়ে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিসহ কৃষি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা যেতে পারে ।

৪। স্থানীয় পর্যায়ে সামগ্রিক কৃষি সেবাদানকারি বিভাগসমূহের কর্মকর্তাদের গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত কৃষি প্রযুক্তি সেবা সরবরাহ, মাঠ পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। তাই করোনাসৃষ্ট লকডাউনের কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও বিভাগের অলস পড়ে থাকা গাড়িসমূহ ড্রাইভার ও লজিস্টিকসহ মাঠপর্যায়ে সেবাদানকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।
৫। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা/উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে সামগ্রিক কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ত্রাণ বিতরণের মত জরুরি কাজে নিয়োজিত করা হলে জরুরি কৃষি/প্রাণিসম্পদ/মৎস্যসম্পদ সম্প্রসারণ সেবা ব্যাহত না করেও অন্যান্য জরুরি সেবায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

৬। সামগ্রিক কৃষি খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে করোনাযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উৎসাহিত করা এবং প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা।

৭। প্রাণিসম্পদ শিল্প হতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জুওনোটিক রোগজীবাণু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। সে কারণে ফার্ম টু ফর্ক প্রতিটি স্তরে নিরবিচ্ছিন্ন তদারকি/নজরদারী নিশ্চিত করা।

৮। জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের আওতাধীন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে স্বাভাবিক গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৯। ফসল খাতের উৎপাদন উপকরণ ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়াসে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দকে কাজের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১০। খরিপ-১ মৌসুমের প্রধান প্রধান ফসল, যেমনঃ- আউশ ধান, পাট, মুগডাল প্রভৃতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা যাতে অর্জিত হয় সে বিষয়ে কৃষি গবেষণা, বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ কর্মধারা সচল রাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বীজ সারসহ প্রণোদনা প্যাকেজ সময় মতো সরবরাহের সুব্যবস্থা করা।

১১। কৃষি উপকরণ দেশের বাইরে থেকে আনা, খাদ্যপণ্য আমদানি-রফতানি এবং কৃষিপণ্যের ও উপকরণের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা সুচারুরূপে চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে তৎপর থাকার ব্যবস্থা করা।

১২। খাদ্য শস্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এক খন্ড জমিও অনাবাদি না রাখার নীতি গ্রহণ করে আসন্ন আউশ, আমন ও খরিপ মৌসুমে (যেমন- গম, ভূট্টা, পাট, সবজি ও অন্যান্য ফসল) জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে অধিক ফসল উৎপাদনের সর্বাত্ত্বক পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

১৩। ফসল উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা।

১৪। এই সংকটকালীন সময়ে কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার।১৪। এই সংকটকালীন সময়ে কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও কাংক্ষিত উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হতে সদ্য পাশকৃত গ্র্যাজুয়েটদের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শাফীয়ার রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে একটু জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে এদেশের সব কৃষিবিদরা বধ্যপরিকর। এবার আমরা পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকবই।