মোহাম্মদ মানিক হোসেন:

করোনাভাইরাসের কারণে দরিদ্র মানুষেরা চরম খাদ‌্য সঙ্কটে আছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদে থাকা এই মানুষগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনেক সময় খাদ‌্যসামগ্রী বিতরণকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের চকমানিক ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ বিধবা আনোয়ারা বেগম এর সাথে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম বিচারের দাবী জানিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২ টায় ফতেজংপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছলেমান আলী নাটা এর কাছে ত্রাণ চাইতে গিয়ে তার হাতে নির্যাতনেরর শিকার হন তিনি।

জানাগেছে,বিধবা এই মানুষটির বাড়িতে কোন খাবার নেই। তাই ইউপি সদস্য ওই দিন সেই এলাকায় আসলে তিনি ত্রাণের জন্য তার কাছে সাহায্যর আবেদন করে। কিন্তু মেম্বারতো ত্রাণ দেবেই না, উপরন্তু জুটেছে মারধর আর তিরষ্কার।

নির্যাতনের শিকার আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘‘আমি গরিব মানুষ। আমার স্বামী নেই। করোনাভাইরাসের কারণে চরম খাদ‌্য সঙ্কটে আছি। সবাই ত্রান পাচ্ছে । তাই আমিও মেম্বারের কাছে ত্রান চাইতে গেছিলাম । কিন্তু সে ত্রানতো দেবেই না বরং উচ্চবাচ্য কথা শুনিয়ে দেয় ও অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমি এর প্রতিবাদ করলে সে আমাকে চর মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে বিষয়টি বিচারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ লুনারকে জানালে ৩দিন পার হয়ে গেলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপন করে। এর এক পর্যায়ে আবারো ইউপি সদস্য ছলেমান আলী নাটা চেয়ারম্যানকে বিচার দিছি কেন এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এলাকা ছাড়ার হুমকী দেয়। এটা নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশেরও হুমকিও দেয় মেম্বার । তাই আমি আমার নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৫ এপ্রিল বুধাবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ছলেমান আলী নাটার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগে থানায় একটি জিডি নেওয়ার জন্য অফিসার্স ইনচার্জকে বলেছি। শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।