মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত থেকে ফেরতকারী বাবু বিপিন রায়ের বাড়িতে রাতের আঁধারে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেন খানসামা থানার নবাগত ইনচার্জ অফিসার (ওসি) শেখ মোঃ কামাল হোসেন।

ওসি শেখ কামাল হোসেন: ফাইল ছবি

বাবু বিপিন রায়ের বাড়ি উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের মাঝাপাড়ায়। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে মাস তিনেক আগে বিপিন রায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ির গরু, ছাগল ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে উপার্জনের টাকায় চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনি ভারতে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ১৮ মার্চ বাড়িতে আসেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে তিনি ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা শুরু করেন। কিন্তু এতে সংসারের জমানো খাদ্য সামগ্রী শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ঠিকমত আছেন কিনা তা তদারকির জন্য ২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে বিপিন রায়ের বাড়িতে খানসামা থানার ওসি শেখ মোঃ কামাল হোসেন গেলে তার স্ত্রী ওসিকে খাদ্য সংকটের কথা জানান। এরপর ওসি সারাদিন দাপ্তরিক কাজ শেষে নিজেই রাত সাড়ে ৭ টায় চাল, ডাল, তেল, লবন, রসুন, পেঁয়াজ, তরকারীসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বিপিন রায়ের বাড়িতে যান। এছাড়াও ওসি শেখ কামাল হোসেন বিপিন রায়ের বাড়ির আশে পাশের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রায় শতাধিক মাস্ক বিতরণ করেন। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে বিপিন রায়ের স্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

বিপিন রায়ের স্ত্রী বলেন, পুলিশ হামার জন্য খরচ নিয়ে আসিবে তা কোনদিন ভাবো নাই।মোর স্বামী ভারত থাকি ডাক্তার দেখার পর বাড়ি আসি কোন কাজ করির না পারি বাড়িত কোন খরচই ছিল না। আইজ পাশের বাড়ি থাকি চাউল ধার করে নিয়ে আসি ভাত রান্না করে খাইছি। যাইহোক পুলিশের বড় স্যারকে চাল ও তরকারী না থাকার কথা বলায় তিনি আইজ নিজে হামার বাড়িত নিয়া আইচ্ছে। ভগবান ওসির ভাল করুক।

খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস রোধে প্রবাসী ও বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা ঠিক মত হোম কোয়ারেন্টাইনে আছ কিনা তা দেখার জন্য বিপিন রায়ের বাড়িতে গেলে জানতে পারি চাল, ডালের অভাবে সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত তারা কিছুই খায় নি। পরে আমি নিজেই বাজারে যেয়ে চাল, ডাল, তেল, তরকারী সহ প্রয়োজনীয় খরচ তার বাড়িতে পৌছে দেই। বর্তমান সময়ে কেউ না খেয়ে থাকবে তা তো হয় না। এটা তো আমাদের সকলের দায়িত্ব।