মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন কি-না তা পর্যবেক্ষণে এবার বাড়িতে বাড়িতে মনিটরিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকেল হতে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ওমান, দুবাই, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে দেশে ফেরা চারজনের বাড়িতে যান। এরা উপজেলার ভেড়ভেড়ী, আঙ্গারপাড়া ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের বাসিন্দা। এরা গত ৭/৮ আগে দেশে আসেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে যারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি-না তা যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম লিডার ডা.ফারুক আহমেদ রিজওয়ান ইউএনও’র সাথে থেকে প্রবাসীদের করণীয় ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করছেন।

প্রবাসীরা দাবি করেন, বাইরে থেকে আসার সময় তাদের স্বাস্থ্য কয়েক দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাড়িতে আসার পরও কোন সমস্যা নেই। ঠান্ডা, কাশি, বা হাঁচি নেই। তারপরও তারা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় নিয়ম মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে উপজেলায় চার প্রবাসীককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।ইতিমধ্যে দুবাই প্রবাসী এক ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদের বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং চালানো হচ্ছে। বাইরে বের হলে বা কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে উপজেলায় ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা করোনা সংক্রমন রোধে মানুষকে সচেতন করবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামসুদ্দোহা মুকুল জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মেডিকেল অফিসার ডা.ফারুক আহমেদ রিজওয়ানকে টিম লিডার করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম গঠন ও কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে তিনি সকলকে সচেতর থাকার পরামর্শ প্রদান করেছেন।