সুলতান মাহমুদ,দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ড স্টাডিজ অনুষদের ডীন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড.ফাহিমা খানমকে সাবেক ভিসির গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কর্মচারী দ্বারা রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যকে কটুক্তির বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানা-জানি হলে উক্ত ঘটনার জের ধরে আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঐ কর্মচারীর সাথে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কথা বলতে গেলে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঐ কর্মচারী চড়াও হয়ে কথা বলা শুরু করলে বিশৃংখল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে সেখানে অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের আহবায়কসহ কয়েকজন সদস্য এসে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের ওপর চড়াও হলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে অনাচার ও নিপীড়ন মঞ্চের সদস্যরা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করে। এর আগেও এই কর্মচারী একটি সভায় পূর্বানুমতি ব্যতীত প্রবেশ করে অপর একজন শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক ভিসির গাড়িচালক এই কর্মচারী কয়েকজন সহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষককে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন এই শিক্ষকেরা। শুধু তাই নয়,দেলোয়ার নামের এক গাড়ি চালককে গাড়ি চাপা দিয়ে মারতে চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে । এ রকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সাবেক ভিসির গাড়ি চালক এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

তবে অভিযুক্ত কর্মচারী (সাবেক ভিসির গাড়ি চালক) জাহাঙ্গীর আলম জানান,আমি ম্যাডামকে কোন গালি দেয়নি। আমি যদি ফাহিমা ম্যাডামকে গালি দিয়ে থাকি তাহলে ম্যাডাম প্রশাসনকে অভিযোগ দিবে ওনিও এখানকার এমপ্লয়ী আমিও এমপ্লয়ী তাই বলে গুন্ডাবাহিনী লেগে দিবে? এর পূর্বের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চাকরি-বাকরি করি তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে সেটা বহু আগের ঘটনা। আমার নামে অনেক অভিযোগ থাকতেই পারে। পরে তিনি আজকের ঘটনার বাহিরে কথা বলবেন না বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক ড.ফাহিমা খানম বলেন,ও (কর্মচারী জাহাঙ্গীর)আমাকে সামনে পেলে বিভিন্ন সময়ে আমাকে কটুক্তি করে বিভিন্ন ভাষায় গালাগাল করে । গতকালকেও ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির সামনে দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম তখন সে আমাকে দেখা পেয়ে অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলে। যা আমি মুখে আনতে পারব না। আর আজকে কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না পরে জানতে পেরেছি।

লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে কি;না সে ব্যাপারে তিনি বলেন,এখনো কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। আগামীকাল গিয়ে দিবো।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, আমরা কারো কাছ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।