সুলতান মাহমুদ দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রশিদকে আহবায়ক ও হাসান জামিলকে সদস্য সচিব করে অনাচার ও নীপিড়ন(সঠিক হবে নিপীড়ন) বিরোধী মঞ্চের ৪৬ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু কমিটি কে বা কারা অনুমোদন দিয়েছে সে ব্যাপারে কিছুই বলা নেই বা কোন স্বাক্ষর নেই নবগঠিত কমিটির ফরমে।

আজ শুক্রবার এই নবগঠিত কমিটি আত্মপ্রকাশের পর এ নিয়ে সর্বত্র হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গন মাধ্যমে প্রেরিত কমিটির নামের তালিকায় দেখা গেছে ২৬ নাম্বার সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সহকারী অধ্যাপক হাসান জামিলকে আবার তাকেই বানানো হয়েছে সদস্য সচিব । কমিটির নামের নিপীড়ন বানানটি পর্যন্ত ভুল লিখা হয়েছে। উক্ত কমিটি আত্মপ্রকাশের পর এ নিয়ে সর্বত্র হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদেরকে নিয়ে এই অনাচার ও নীপিড়ন বিরোধী মঞ্চ করা হয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন অনাচার ও নীপিড়নমূলক কাজের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সোশিওলোজি বিভাগের জনাব আব্দুর রশীদ পলাশ,যিনি এই নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের আহবায়ক স্বয়ং তার নামেই রয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার আর্থিক দুর্নীতি,একাডেমিক জালিয়াতি,সন্ত্রাসী কায়দায় রেজিস্ট্রারের সেক্রেটারিয়েট টেবিল ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন অপর্কমের অভিযোগ। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন এসব অভিযোগের কারণ দর্শালে তার কোন সদুত্তর না দিয়ে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে অবজ্ঞা করে গেছেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অভিযোগ হলো তিনি বিএনপি ও জামাতপন্থী সাদা দলের নির্বাচিত কমিটির সদস্য ।

২০০৬ সালে গঠিত সাদা দলের কমিটির কাগজে স্পষ্ট তার নাম রয়েছে। পাশাপাশি সাদা দলের সাধারণ সভা ২ ও সাধারণ সভা ৩ এর দুটি কপি পাওয়া গেছে, যেখানে তিনিসহ প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের অনেকের স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি ছাড়াও এই মঞ্চের সদস্য অধ্যাপক মামুনুর রশিদ,ফেরদৌস মেহবুব,মমিনুল ইসলাম,আদিবা মাহজাবিন নিতু বিএনপি ও জামাতপন্থী সাদা দলের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন, তাদের ও নাম ও স্বাক্ষর আছে সাদা দলের কমিটি তে। এরমধ্যে অধ্যাপক ফেরদৌস মেহবুব এর বিরুদ্ধে পিএচডি ডিগ্রী ইস্যু এর পূর্বে অনৈতিকভাবে সুবিধা গ্রহণ,সরকারি অর্থ আত্মসাত করা,আদিবা মাহজাবিন নিতুর বিরুদ্ধে উপাচার্যকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ এবং অনৈতিকভাবে ছুটিভোগ ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মঞ্চের সদস্য সচিব হাসান জামিলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দায়িত্বরত শিক্ষকদের ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রদান,একাডেমিক দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।

মঞ্চের সদস্য সৌরভ পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাডেমিক জালিয়াতি ও মিথ্যাচার করে প্রশাসনকে হেয়করণ,আসাদুজ্জামান জেমি,আহমেদুল হক খোকন এর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে হত্যার মামলাসহ মঞ্চের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপকর্মের অভিযোগ। তারা নিজেদের অপকর্ম গুলোকে ঢাকতেই এই মঞ্চ তৈরি করেছেন বলে মনে করেন অনেকেই। শুধু তাই নয়,বিএনপি-জামাত থেকে অনুপ্রবেশকারী এই মঞ্চের অধিকাংশ সদস্য প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ছত্র ছায়ায় থেকে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের হুমকি-ধমকি প্রদানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কাজে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর।

স¤প্রতি প্রগতিশীল ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক কৃষি অনুষদের ফসল ও শারীরতত্ত¡ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং জনসংযোগ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. শ্রীপতি সিকদারকে তার কক্ষে গিয়ে লাঞ্ছিত করলে ফুসে ওঠে কৃষি অনুষদীয় পরিবার। পরবর্তীতে লাঞ্ছনাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি দেয় কৃষি অনুষদীয় পরিবার। এর আগে এই মঞ্চেরই কয়েকজন সদস্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্মসাধারণ সম্পাদককে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি প্রদান করে এবং সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.মো.সফিউল আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত (যার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল) করণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীকার্যক্রম তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ রকম বহু অপকর্মের সাথে জড়িত এই মঞ্চের অধিকাংশ সদস্যই। যার সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে।

মঞ্চের আহবায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারীদের বেআইনিভাবে বিভিন্ন প্রকার শাস্তি, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা, বেতন বন্ধ রাখা, বদলী করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হযরানি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালযরে সুনাম ও গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল নিপীান, নির্যাতিত মানুষের উপর অত্যাচার বন্ধের লক্ষ্যে ‘অনাচার ও নীপিড়ন বিরোধী মঞ্চ’ আতœপ্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালযরে সার্বিক কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থ রক্ষাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।