নিজস্ব প্রতিবেদক মানিক হোসেন:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতল ছাদেই  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম.জি.এম সরোয়ার হোসেন গড়ে তুলেছেন ছাদ কৃষি বাগান । কথায় বলে মানুষের শখের শেষ নেই। একেক জন শখও কিন্তু আলাদা। তেমনি তিনি নিজের কর্মস্থলেই প্রকৃতিকে ভালোবেসে গড়ে তুলেছে ছাদকৃষি। দৃষ্টিনন্দন দেখতে এই ছাদ কৃষি বাগান।

ওই ছাদেই শোভা পাচ্ছে কমলা, আপেল মালটা, আম, কামরাঙ্গা, আঙ্গুর, আমড়া, ঔষধী, কতবেল, তেতুল, বেদানা, ডালিম, লটকন, আপেলকুল, হাইব্রিড নাকিকেল, এলাচি, লেবুসহ নানা ফলফালাদির গাছ। প্রায় ২ বছর পূর্বে তিনি উপজেলা কমপ্লেক্সে শিক্ষা অফিসে দ্বিতীয় তলায় ছাদে সখের বশে কৃষি বাগানটি গড়ে তুলেছেন। প্রথম দিকে মালটা, কমলা ও আমের চারা দিয়ে বাগানের যাত্রা শুরু করেন। বছর শেষেই বাগান থেকে মালটা পান। মিষ্টি ও সুস্বাদু মালটার সাথে আমও পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তিনি কামরাঙা, ডালিম, সফেদা, লেবু, জলপাই, পেয়ারা, বরই, আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে ছাদের ওপরে সারিবদ্ধভাবে বড় ফুলের টবে মাটি ভরাট করে প্রতিটি টপে একটি করে ফলদ গাছ। গাছে ফল ধরেছে। মালটা গাছে এবারও ফুল এসেছে। আম এর পাশাপাশি রয়েছে, আঙ্গুর, জামরুল, জলপাই, কতবেল, ঔষধী ও তেতুল গাছ।

চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম.জি.এম সরোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব অর্থায়নে এবং পরিচর্যায় তিনি ফলদ বাগানে পরিণত করে তুলেছেন। অবসর সময় বাগানে কাটে তার। এ কাজে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন তার অফিসের সহকর্মীরা।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শহরে বসবাসরত মানুষ তাদের ভবনের ছাদে স্বল্প পরিসরে ফল ও সবজি উৎপাদন করে প্রতিদিন বিষমুক্ত ফল-সবজি খেতে পারেন। চিরিরবন্দর উপজেলা কমপ্লেক্সে ছাদ কৃষি এটাই প্রথম। তার দেখাদেখি অন্যরা এগিয়ে এলে ছাদ কৃষিতে যে ধরনের সহযোগিতা লাগবে তা আমরা প্রদান করব। একইসাথে তিনি বলেন, মানুষ ছাদ কৃষিতে এগিয়ে এলে কৃষি সম্প্রসারিত হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, আমি ছাদ কৃষি দেখে অতিভূত হয়েছি। আসলে সময় পেলে সকলকেই ছাদ কৃষি করা দরকার।