দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে উদ্ভাবনী গার্ডেনিং পুষ্টি-পুষ্প ও ভেজষ বাগান। পাশাপাশি হাসপাতালজুড়ে ইনডোর প্ল্যানটেশনে পুষ্টি বা মিউটেশন ট্রে, প্রসূতি মা ও বাচ্চাদের উপহারসামগ্রী ও প্রসূতি কার্ড প্রদান, হাসপাতাল রোগীর স্বজনদের সময় কাটানোর জন্য লাইব্রেরি স্থাপন, রোগী ও স্বজনদের খাবারঘর স্থাপন ও গুণগত কাজের জন্য রয়েছে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা।

এত কিছুর পরেও কুপির নিচে অন্ধকার। হাসাপাতালের পৃষ্ঠপোষক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আজমল হক সারা হাসাপাতাল ঘুরিয়ে যা দেখালেন. তাতে এমনটাই মনে হতে পারে যে কারো।

ডা. মো. আজমল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ইনডোর ও আউটডোর সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে পুষ্টি-পুষ্প ও ভেজষ গার্ডেনিং হাসপাতাল উপহার দিয়েছেন চিরিরবন্দরবাসীকে। হাসপাতালটি একসময় ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যা এখন যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। হাসাপাতালে প্রবেশ করতেই মেডিসিনের গন্ধের পরিবর্তে ভেসে আসছে বিভিন্ন প্রকার ফুলের গন্ধ। হাসপাতালের ভেতরের করিডরগুলো সাজানো হয়েছে বিভিন্ন প্রকার ফুলের টব দিয়ে। করানো হচ্ছে স্বাভাবিক ডেলিভারি।

চিকিৎসাসেবার মানবৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্ভাবনী গার্ডেনিং পুষ্টি-পুষ্প ও ভেজষ সেবায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আজমল হক।

ডা. মো. আজমল হক বলেন, প্রথমত সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে উদ্ভাবনী গার্ডেনিং ব্যবস্থা সমুন্বত রাখা, দ্বিতীয়ত সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক নেতৃত্বদান ও তৃতীয়ত এসডিজি অর্জনের জন্য সিজারকে না এবং নরমাল ডেলিভারি বৃদ্ধি ও মাতৃ এবং শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন করার বিষয় মাথায় রেখেই তিনি এ কাজগুলো করেছেন।

কিন্তু হাসপাতালটিতে ভবন নির্মাণ করে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নয়ন করা হলেও দেওয়া হয়নি তার জনবল। ৯ একর জমির ওপর ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি চলছে ৩১ শয্যার বরাদ্দ দিয়ে। ডাক্তার ৩৪ জন দরকার থাকলেও কর্মরত আছেন পাঁচজন। ৩১ জন নার্সের স্থলে আছে ১৭ জন। ওয়ার্ড বয় ৫ এর স্থলে এক আর আয়া ৯ স্থলে এক।

তবে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও টেলিমেডিসিন সেবায় ৫২ সপ্তাহের ২৬ সপ্তাহে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে এই হাসপাতালটি। প্রতিমাসে অন্তত ৫০টি নরমাল ডেলিভারি হয়ে থাকে এখানে। কালেরকন্ঠ