ইতালি প্রবাসী কবির অাহমেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরল না। তিনি এর আগেই মরণব্যাধি ক্যান্সারে অাক্রান্ত হলেন। এক বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় লিবিয়া থেকে ইতালি পাড়ি জমান। ইতালি আসার পরপরই শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। যে সময় অর্থ উপার্জন করবেন সে সময় মরণব্যাধিতে অাক্রান্ত হয়ে বিছানার সঙ্গী হয়ে আছেন তিনি। পৃথিবীর আলো যেন ফুরিয়ে আসছে তার জীবনে। ফলে অর্থ আর উপার্জন করা হলো না তার। শেষমেশ দেশে ফিরতে চান কবির আহমেদ। তিনি জানান, তার পারিবারিক অবস্থা তেমন একটা ভালো না। ইতালি থেকে দেশে ফিরে যেতে এবং দেশে ফিরে সেখানে চলার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার।

দেশে ফিরতে সবার কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন কবির। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। এই মুহূর্তে খুবই অসহায় অবস্থায় ইতালিতে জীবনযাপন করছেন এই প্রবাসী।

কবির আহমেদ বলেন, ‘গত তিনটি বছর লিবিয়াতে কাটিয়েছি অথচ তেমন একটা অর্থ উপার্জন করতে পারিনি। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি পাড়ি জমালাম। কিন্তু ভাগ্য আমার সহায়ক হলো না। এখানে আসার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই ইতালি এসেও টাকা রোজগার করতে পারিনি।’

‘এখন আমি দেশে যাবই বা কী করে এবং সেখানে গিয়ে আমার চলবে কীভাবে?’-আক্ষেপ করেন কবির আহমেদ।

দেশে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে কবির আহমেদের। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার পাছতুপা সেনবাগ থানার চাতার পাইয়া ইউনিয়নে। বাবার নাম সিদ্দিকুর রহমান। তিনি তার বাকিটা সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চান।

তিনি আরো বলেন ‘ভাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে দেশে পাঠান, আমার শরীরের অবস্থা তেমন ভালো না।’

এ ব্যাপারে রেজিয়নে মার্কে, অানকোনা বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. দুলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘কবির আহমেদকে সহযোগিতা করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছি। অনেকেই আশ্বস্ত করেছেন। তাছাড়া এই মানবিক ব্যাপারটি দূতাবাসকেও অবগত করা হয়েছে। আশা করি তার প্রতি সাহায্যের সুদৃষ্টি থাকবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে দেশে পাঠানোর সম্মিলিত চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, কবির আহমেদ বর্তমানে ইতালির মানবিক সংস্থা কোয়াস্টের অধীনে আছেন। সাহায্যের জন্য যোগাযোগ : মো. দুলাল, সভাপতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন রেজিয়নে মার্কে, অানকোনা ৩২৯৮৭৮৭৫৮৫, তরুন ফালকোনারা ৩৪৮২৪০২৩৬২, মারুফ আনকোনা ৩৩১৮৮৯৭১২৬।

সূত্র: নিউজজি২৪।