এক. একজন কলেজ শিক্ষক। তার হেপাটাইটিস বি-পজিটিভ। একজন ভালো হেপাটোলজিস্টের সন্ধান চাইলেন। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘তিনি যেন আমাদের ঘরানার হন’। আমি বিরক্তি নিয়ে জানতে চাইলাম, আপনি কি ডাক্তার দেখাবেন নাকি ঘরানা দেখাবেন?

তারপর তিনি বললেন, একটা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি একজন হেপাটোলজিস্টকে দেখিয়েছেন। ইনভেস্টিগেশন করিয়ে যখন আবার গেলেন তখন ওই চিকিৎসক রিপোর্টগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে নাকি বলেছেন তাকে দেখবেন না। কারণ, পরীক্ষাগুলো করানো হয়েছে ইবনে সিনা থেকে।

দুই. একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক যিনি টিভি টক শো এবং কলাম লিখে বেশ জনপ্রিয়। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যও ছিলেন। তিনি একজন ভালো স্কিন স্পেশালিস্টের রেফারেন্স চাইলেন। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন ঘরানার ব্যাপারটা।

তাকেও একই প্রশ্ন করলাম, স্যার ঘরানাটা কি গুরুত্বপূর্ণ? তিনি বললেন, মঞ্জুরি কমিশনে থাকাকালে আপনাদের অনেক প্রফেসরের অনেক কাজই নিঃস্বার্থভাবে করে দিয়েছি। তখন ঘরানা দেখিনি।

কিন্তু তাদের কারো কারো কাছে এখন চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের এটিচ্যুডে উপলব্ধি করেছি তারা ঘরানা মাথায় রেখেই আমাকে ট্রিট করছেন।

তিন. একজন জনপ্রিয় সেলিব্রিটি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন পছন্দের মানুষ। দীর্ঘদিনের আপনজন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছেন বহু বছর ধরে। পরশু চেম্বারে এসেই বললেন, তোমার এখানে আসব শুনে একজন জোর দিয়ে বলল, ওর কাছে যাবেন না। ও আমাদের শত্রুপক্ষ।

তারপর আক্ষেপ করে বললেন, আমরা কোথায় যাচ্ছি!

তারপর থেকে মাথায় এই পোকাটা কুটকুট করে কামড়েই যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছি আমরা? রাজনীতির বিভাজন ঠিক করে দিচ্ছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক। এমনকি চিকিৎসা সেবা দেয়া/নেয়াটাও!

একজন চিকিৎসক যখন কাউকে চিকিৎসা দেন তখন তো সম্পর্ক একটাই, চিকিৎসক ও রোগী। এরচেয়ে বড় আর কোনো সম্পর্ক খোঁজার প্রয়োজন আছে কি?

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ওরাল অ্যান্ডম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবমেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়