একাদশ সংসদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করায় উকিল নোটিস গেছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নামে। এই নোটিসটি পাঠিয়েছেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বশর মজুমদার। তিনি ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সম্প্রতি নাগরিক ঐক্যের যে ৩৫টি আসনের প্রার্থী তালিকা গণমাধ্যমে আসে, তাতে ওই আসনে বশর মজুমদারের নাম দেখা যায়। এর বিরুদ্ধেই মঙ্গলবার আইনি নোটিসটি পাঠান তিনি।

ঢাকার তোপখানা রোডের নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ।

নোটিসে বলা হয়েছে, মান্না নিজে অথবা কোনো ষড়যন্ত্রকারী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বেআইনিভাবে খায়রুল আলম বশর মজুমদারের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এতে তার রাজনৈতিক, সামাজিক সুনাম, খ্যাতি ক্ষুন্ন হয়েছে।

এই মানহানির জন্য ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে নোটিসে।

তিন দিনের মধ্যে জবাব না মিললে মানহানির মামলা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বশর মজুমদার।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমানের প্রকাশিত ওই তালিকা সম্পর্কে খায়রুল আলম বশর মজুমদার বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাগরিক ঐক্য নামক একটি দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমার নাম জড়িয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। যার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, আমি আমার জীবনের ১ম রাজনীতির দিন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের পক্ষে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে এধরনের অপপ্রচার ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন খায়রুল আলম বশর মজুমদার। পরে জোটের দল জাসদকে ছেড়ে দেওয়া হয় আসনটি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসনটিতে এখন সংসদ সদস্য জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

খায়রুল আলম বশর মজুমদার ১৯৭৮ সাল সালে ছাত্রলীগে যুক্ত হন। পরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন।

এব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।