পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। এইচ এস সি পাশের পর প্রায় সবারই চিন্তা থাকে দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ সমূহের যে কোন একটিতে নিজের জন্য একটি আসন নিশ্চিত করবার। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কষ্ট করার পর অনেকে হয় সফল, আবার অনেকে সফল হতে না পেরে নিমজ্জিত হয় গভীর হতাশা আর দুশ্চিন্তায়।

শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার আরেক নাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অদ্যাবধি শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসতেছে। তবে গতবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কয়েকটিতে ভর্তি পরীক্ষা বাকী থাকা অবস্থায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে যায়। অনেকে বাধ্য হয়ে ফরম তুলে ভর্তি হয়। কিন্তু পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার ফলে অনেক দৌড়াদৌড়ি করে সেখানে ভর্তি বাতিল করে তাদের মূল কাগজপত্র ফেরত নেয়। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তি পরীক্ষা শুরু না হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে সরাসরি ভর্তি। সাধারণত দেখা যায়, কোন শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স না পেলে সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবে কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে। ফলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কলেজে লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে হচ্ছে। ঐ শিক্ষার্থী আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে অনেক ছোটাছুটি করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাতিল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কলেজভেদে ৫০০০-৮০০০ টাকা দিয়ে ভর্তি এবং ১৫০০-২০০০ টাকা দিয়ে ভর্তি বাতিল করতে হবে। এখানে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষের আগে হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৭০০০-১০০০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতির সাথে সাথে মোটা অংকের টাকা নিয়েও প্রতিযোগিতার মাঠে নামতে হচ্ছে।
একদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরমের চড়া মূল্য অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন কর্মকাণ্ড যেন মরার উপড় খাড়ার ঘাঁ !

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ভয়াবহ সেশনজট থেকে মুক্তিদানকারী সুবিবেচক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টির দিকেও একটু মনোযোগ দিলে আশা করি শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চিন্তা কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ায় সময়টুকু ব্যয় করলে অনেকের জন্য সহজে উন্মুক্ত হতে পারে উচ্চশিক্ষার দ্বার। পাশাপাশি বেঁচে যাবে কৃষিপ্রধান দেশের অনেক গরীব কৃষক বাবা-মা । স্বল্প খরচেই ফুটতে পারে তাদের মুখে স্বর্গীয় হাসি ।

আশা করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

লেখক:অাবু  সুফিয়ান
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়