মডেল  স্বরণ

 

শীত চলে এল বলে। শুষ্ক ত্বকের সমস্যাগুলো কড়া নাড়তে শুরু করেছে। দরকার বাড়তি যত্ন, যেন শুষ্ক ত্বকেও থাকে সতেজ ভাব। লিখেছেন এম ফাহিম ফয়সাল স্মরণ

হালকা হালকা শীত নামছে শহরে। শহরের বাইরে শীতের আমেজ টেরও পাওয়া যাচ্ছে। যাঁদের ত্বকের ধরন শুষ্ক, তাঁরা ভালোই বুঝতে পারছেন প্রকৃতির দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে শীত। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক লাবণ্য। যে কারণে শুষ্ক ত্বক ফেটে যায়। মুখে পড়ে বলিরেখা। ত্বক হয়ে পড়ে কালো ও বিবর্ণ। ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে তাই প্রয়োজন বিশেষ যত্নের।

শীতজুড়ে ত্বকের যত্নে তাই ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ প্রসাধন ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন ক্লিনিকের রূপবিশেষজ্ঞ শাহীনা আফরিন মৌসুমি। ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ক্রিম, লোশন আর ফেসওয়াশের পাশাপাশি ঘরে তৈরি প্যাক, ক্লিনজারও ব্যবহার করতে পারেন এই সময়।
পানি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখেত্বকের শুষ্কতা দূর করতে নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার। তবে লোমকূপের কারণে তেল সরাসরি ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে না। সে জন্য তেলের সঙ্গে অন্য উপকরণ মিশিয়ে নেওয়া ভালো। এক কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে দুই টেবিল–চামচ গ্লিসারিন আর ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভালোভাবে মিশিয়ে কৌটায় রেখে দিতে পারেন।
পুরো শীতে প্রতিদিন রাতে এই মিশ্রণের ব্যবহার ত্বকে এনে দেবে বাড়তি জেল্লা। শীতে শুষ্ক ত্বকের জন্য কাঁচা দুধের ব্যবহারও বেশ উপকারী। শীতে এ ধরনের ত্বকে কালো কালো ছোপ দেখা দেয়। জায়ফলের খোসার ভেতরে থাকা বিচির অর্ধেকটুকু ভেঙে বেটে নিন। এবার কাঁচা দুধের সঙ্গে জায়ফলের মিশ্রণ ও দেড় চা-চামচ বেসন মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণের ব্যবহার ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। দুধের সঙ্গে গোলাপ জল, কমলা ও লেবুর রস, দুধের সর ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া এক টেবিল-চামচ দুধের সঙ্গে দুই চা-চামচ নারকেল দুধ, একটি খেজুর ও কেওলিন পাউডার মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই প্যাকও সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে হবে।
প্রসাধন যা–ই হোক তাতে যেন ময়েশ্চারাইজার থাকেশীতে ঠোঁট ফেটে যাওয়া খুব স্বাভাবিক এক সমস্যা। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এ সমস্যা যেন আরও প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিনবেইজড এসপিএফ ১৫-সমৃদ্ধ লিপ বাম ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন এই রূপবিশেষজ্ঞ। এদিকে ঠোঁটের বাড়তি যত্নে এক চা-চামচ হলুদের রসের সঙ্গে এক চা-চামচ গোলাপের পাপড়ি বাটা, এক চা-চামচ ছোলার ডালের বেসন, আধা চা-চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। পাঁচ মিনিট রাখার পর দুই থেকে তিন মিনিট ম্যাসাজ করে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে এক দিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
শুষ্কতার কারণে শীতের সময় হাতের কবজি থেকে আঙুল পর্যন্ত ত্বক অতিরিক্ত খসখসে হয়ে পড়ে। এ জন্য এক কাপ নারকেল কুড়িয়ে বেটে নিন। এর সঙ্গে এক কাপ সুজি ভালো করে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে এলে দুই টেবিল-চামচ আলুর রস ও এক টেবিল-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে এক দিন এই মিশ্রণে ব্যবহার পুরো শীতে হাতের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ২০ মিনিট হাতে রাখার পর তোয়ালে দিয়ে তা ভালো করে মুছে নিন। এবার হালকা কুসুম গরম পানিতে হাত ধুয়ে ফেলুন।
অনেক বেশি ত্বক শুষ্ক লাগার কারণে অনেকেই মুখে বারবার পানির ঝাপটা দিয়ে থাকেন। এই সময় বারবার পানির ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। এ জন্য একটি পাত্রে পানির সঙ্গে অল্প পরিমাণে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এ ছাড়া নিয়মিত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করলে এই শীতেও আর সহজেই শুষ্ক হবে না ত্বক।