বাঙালিয়ান ডেক্সঃ

বিএনপি শাসনামলে রাজধানীর বনানীতে আলোচিত হাওয়া ভবনের ‘খাওয়া মেটাতে’ দেশকে উন্নয়ন বঞ্চিত থাকতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, তার সরকার দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা দরকার।

শুক্রবার ময়মনসিংহে করা জনসভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিভাগীয় শহরটির সার্কিট হাউজ ময়দানে এই জনসভায় ময়মনসিংহ ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়।

নেতা-কর্মীদের ভিড়ে বিশাল সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ময়দান ছাড়িয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় গিয়ে পৌঁছে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায়।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ময়মনসিংহে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ছিল উৎফুল্ল। পুরো নির্বাচনী আমেজ নেয় জনসভাটি। কারণ, সেখানে যারা যোগ দিয়েছেন, তারা দলীয় প্রতীক নৌকার প্রতিকৃতি নিয়ে যেমন হাজির হয়েছেন, তেমনি ‘নৌকা, নৌকা’ স্লোগানে জনসভা মুখর করে রাখেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বলেন, ‘খুন, হত্যা, দখল, সন্ত্রাস , চাঁদাবাজি-এই ছিল বিএনপির কাজ। সরকার ছিল সেই সময় হাওয়া ভবন। এই হাওয়া ভবনের খাওয়া মেটাতে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় নাই। সব অর্থ পাচার হয়েছে।’

জোট আমলে (২০০১-২০০৬) এই এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে নারীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মত গণধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কারও ওপর অত্যাচার করে না। আওয়ামী লীগ নিযার্তন করে না। আওয়ামী লীগ  করে উন্নয়ন।  আওয়ামী লীগ  করে মানুষের কল্যাণ।’

‘বিএনপি-জামায়াত ২০১৪ তে নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৩৯০০ মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে, ৫০০ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। হাজার হাজার গাড়ি রেললাইন ধ্বংস করেছে। মানুষের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের কোনো অধিকার ছিল না।

বিকালে জনসভায় উপস্থিত হয়েই ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুরের জন্য ১৯৫ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ময়মনসিংহবাসীর জন্য উপহার নিয়ে আজ হাজির হয়েছি।’

এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে বিভাগীয় সদর দপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয় ছাড়াও বিভাগীয় স্টেডিয়াম, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন, ৩৬০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি।

বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে তার সরকারের আমলে দেশের দারিদ্র্য ৪০ থেকে শতকরা ২১ ভাগে নেমে এসেছে।… আগামীতে দারিদ্র্য যেন আরও শতকরা ৫/৬ ভাগ কমাতে পারি, সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

‘আগে যেভাবে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আগামী দিনেও নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’

এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট দিতে জনতাকে ওয়াদাও করান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট চাই। হাত তুলে ওয়াদা করেন।’

দেশের উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ এবং প্রকল্পের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে দেশে খাদ্যের কোন অভাব নাই। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবাদেরকে ভাতা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মানী ভাতা দিয়ে যাচ্ছি।’

‘সমাজে কেউ বাদ থাকবে না-সকলেরই উন্নয়ন হবে। সেই চিন্তা নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি। বাংলাদেশ আজ বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল। এই দেশে প্রতিটি মানুষের ঘর থাকবে, কেউ গৃহহারা থাকবে না। এজন্য গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে গৃহহারা মানুষদের আশ্রয়ণের করতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি।’

‘বাংলাদেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে। খুলনা জেলা বর্তমানে ভিক্ষুকমুক্ত। ময়মনসিংহ ও ভিক্ষুকমুক্ত হবে। কোনো মানুষ ভিক্ষা করবে না। সব মানুষ কাজ করে খাবে। আর যারা কর্মক্ষম না, তাদের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। জাতির পিতার বাংলাদেশে ভিক্ষুক থাকবে না, ক্ষুধার্ত থাকবে না। কেউ রোগে কষ্ট পাবে না, অশিক্ষিত থাকবে না। সবার জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’

ঢাকাটাইমস