বাঙালিয়ান ডেক্স:

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় শরিক হয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে যাওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মঙ্গলবার উচ্চ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

অবশ্য আগের দিন সংলাপে বসতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্মতি আসার পর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে এতে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যাবেন বলে আজ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও বাতিল করেছে ঐক্যফ্রন্ট। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানান মওদুদ নিজেও।

এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির পর বিএনপি স্তম্ভিত বলে জানান ফখরুল। আর এই পরিস্থিতিতে সংলাপে যাবেন কি না- এ প্রশ্নে বলেন, ‘সেটা এখনই বলতে পারছি না। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এই সংলাপে বিএনপির অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নে দলের মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সাত দফা। একটাই দাবি।’

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেন যাদেরকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় শরিক বিএনপি। তারাও এর আগে নানা সময় সরকারের কাছে সংলাপের দাবি জানিয়েছে। যদিও সে দাবি অগ্রাহ্য করেছে সরকার।

 

এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন ড. কামাল হোসেন। আর পরদিন ওবায়দুল কাদের জানান, তারা সংলাপে বসবেন। পরদিন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংবিধানসম্মত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকে।

ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে সংলাপের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, তার ওপর খালেদা জিয়ার দণ্ড বাড়ানোর রায়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ থেকেই বোঝা যাবে, এই সংলাপ কতটুকু আন্তরিক এবং এই সংলাপ কতটুকু ফলোপ্রসূ হবে। জনমনে যে জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন, সেটা অবশ্যই আসবে।’
ঢাকা টাইমস: