বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তার মুক্তি আদায় করতে হবে। তাই এখন থেকে তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও এর আয়োজন করা হয়। রবিবার বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পূর্বপাশের রাস্তায় পাঠানপাড়া এলাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন হেঁটে বাথরুমে যেতে পারেন না। বসে খেতে পারেন না। ১৮ মাস ধরে তাকে টেলিভিশন দেখতে দেয়া হয় না। দুটো মাত্র পত্রিকা দেয়া হয়। কারও সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় না। তার মুক্তি হবে না। আদায় করতে হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি তত্ত্ব দিয়েছেন ক্যাসিনোর টাকা নাকি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে মাসিকভাবে যায়। কী চমৎকার আবিষ্কার আপনার! ক্রিয়েটিভ ইনফরমেশন মিনিস্টার, বলা যাবে। কারণ, এই তত্ত্ব তিনি আবিষ্কার করেছেন। এই তত্ত্ব দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। আপনাদের মুখোশ জনগণের কাছে উন্মোচন হয়ে গেছে।’

‘এক বছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা পার হয়ে গেছে সুইস ব্যাংকে। তার চেয়েও বড় অপরাধ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ভোট ডাকাতি করে জনগণকে তার ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করা যাবে না।’ এ সময় মির্জা ফখরুল সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানান।

ফখরুল বলেন, ‘বিগত নির্বাচনের আগে থেকে ২৬ লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে। এক লাখ মামলা করা হয়েছে। তালিকা করে ১০০ জনের নাম দেয়া হয়েছে। বাকি ৭০০ অজ্ঞাতনামা। সে অজ্ঞাতনামায় একজনকে ধরে এনে বলে, দাও। তা না হলে চালান। এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি মানুষের নামে মামলা আছে। যে বাংলাদেশের মানুষ আগে মামলা চিনত না, কোর্টের বারান্দায় কোনো দিন যাননি, তার বিরুদ্ধেও মামলা আছে। কীসের মামলা? নাশকতার মামলা। নাশকতা কী ও নিজেও জানে না। বোঝেও না। অভিযোগ কী? ষড়যন্ত্র করছে।’

‘এসব বাদ দেন। ওসব দিন শেষ। গোটা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখুন, জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের দল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের একটা রাজনৈতিক দল। এর প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক। এই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আমরা। আমরা দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। আমরা জনগণকে তার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই। আমি দেশের মালিক, জনগণ! তুমি ভোটের অধিকার কেড়ে নেবে? এটা কি মামা বাড়ির আবদার? আমার ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে বাইরের দেশে পুরস্কার আর পুরস্কার নেবে? বাইরের পুরস্কার নিয়ে লাভ হবে না। দেশের মানুষের ভালোবাসা নেয়ার চেষ্টা করেন। সেটা সম্ভব হবে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে।’