প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ নভেম্বর) কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শুকরানা মাহফিলে’ প্রধানমন্ত্রীকে এ উপাধি দেওয়া হয়।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে ‘শুকরিয়া মাহফিল’ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন দেশের শীর্ষ আলেমরা। সভাপতিত্ব করছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

শুকরিয়া মাহফিলের বক্তৃতায় গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন ইসলামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অবদানের কথা তুলে ধরে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধী দেন।

নড়াইলের একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই আলেম সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেন। এছাড়া তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

এর আগে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ও সুলতান যওক নদভীও তাদের বক্তৃতায় কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শুকরিয়া মাহফিলের বক্তৃতায় আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা দেয়ার আবেদন জানান। এছাড়া এখন পর্যন্ত আলেমদের মধ্যে কেউ স্বাধীনতা পদক পাননি, আল্লামা শফীকে আগামীতে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ের মাস্টার্সের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়।

কওমি আলেমরা মনে করেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুগ্রহ। তিনি একক চেষ্টায় দেশের পিছিয়ে পড়া বড় একটি জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ জন্য কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আর এর প্রতিদান হিসেবেই তাকে সংবর্ধিত করতে চান আলেমরা। তবে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা নিতে বিব্রত বোধ করায় তার পরামর্শে আলেমরা এর নাম দিয়েছেন ‘শুকরানা মাহফিল’।