ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ (ফাইল ছবি)

বাঙালিয়ান ডেক্স:

 

নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দলের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপে অংশ নিলেও এর ফল নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি। তবে এখনই আশা ছাড়ছে না রাজপথের প্রধান বিরোধী দলটি। একই সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েও সক্রিয় থাকার কথা বলছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত সমাধান আসবে আন্দোলনেই।

গত বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির স্থায়ী কমিটির ছয় সদস্য এতে অংশ নেন। গণভবনে অনুষ্ঠিত সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান তারা সংলাপে সন্তুষ্ট নন। পরদিন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংলাপ নিয়ে মানুষের মনে জেগে ওঠা আশার মুকুল ঝরতে শুরু করেছে।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংলাপ থেকে বিশেষ কোনো  ফল আসবে না এমনটা ধরে নিয়েই তারা গণভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার মধ্যে তিন দফা মেনে নেয়ার খবর প্রচার হলেও শুধু সভা-সমাবেশ নির্বিঘেœ করার বিষয়টি নিয়ে তারা আশ্বাস পেয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্থায়ী কমিটির নেতারা সংলাপের বৈঠক পর্যালোচনা করেন। সেখানে এমনটাই জানিয়েছেন সংলাপে অংশ নেয়া নেতারা।

সংলাপের পরিবেশ ভালো থাকলেও সরকারি দলের নেতাদের মনোভাব তেমন ইতিবাচক ছিল না বলেও নেতারা বৈঠককে জানান। যে কারণে সামনের দিনগুলোতে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের বিকল্প ভাবছে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সংলাপ চলেছে চলুক। কিন্তু সংগ্রাম থেমে থাকে না। সংগ্রাম চলবে। এ থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই।’ সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংলাপ ভালো হয়েছে, কিন্তু ফলাফল হয়নি। ’

ছোট পরিসরে আবার সংলাপ হলে দাবি মানার বিষয়ে ইতিবাচক কিছু হলে বিএনপি কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে কর্মসূচির ধরনও পাল্টাতে পারে। ’

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, যেকোনো সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তফসিল পিছিয়ে দিতে গতকাল কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি সংলাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইসিকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেছেন।

গত ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, ৪ নভেম্বর ইসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে তফসিল বিষয়ে। আজ সেই বৈঠকে বসছে ইসি।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও শুক্রবার যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। ভালো পরিবেশে সংলাপ হয়েছে বললেও দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলছে দুই জোট। তারা এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি দাবি পূরণের আগে তফসিল ঘোষণা হলে আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছে। তবে কী ধরনের কর্মসূচি নিয়ে তারা আন্দোলনে এগোবেন তা এখনো স্পষ্ট করেনি দলটি।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার স্থায়ী কমিটির অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে নির্বাচন ও আন্দোলন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। এ জন্য দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তও জানবেন তারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, সংলাপ হয়েছে লোক দেখানো। আমাদের সঙ্গে সংলাপের কথা আসতে না আসতে চিঠি দিয়ে সবাইকে (অন্য দল) আমন্ত্রণ জানিয়ে এটাকে হালকা করে দেয়া হয়েছে। তাই এখন আর আন্দোলনের বাইরে আমরা চিন্তা করতে চাই না। ’

জনসভা থেকে আসতে পারে নতুন কর্মসূচি

সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য পূরণের দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেখান থেকে সামনের দিনের কর্মসূচি ঘোষণার কথা বলছেন বিএনপির নেতারা।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জনসভা থেকে আশা করি নতুন বার্তা পাবে সবাই। আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। এর বিকল্প পথ তো নেই।’ কী ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপির এই নেতা।

নির্বিঘেœ সভা-সমাবেশ করা যাবে- সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস পাওয়ায় মঙ্গলবারের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভায় নেতাদের এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করেছি। প্রয়োজনে আরও ১০ বছর অপেক্ষা করব। কিন্তু এবার বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়া হবে না। এ জন্য আন্দোলনের বিকল্প ভাবছি না আমরা।’

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল, ড. কামাল হোসেনর গণফোরাম, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, কর্নেল অলি আহমদের এলডিপি, আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

তারা নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই নির্বাচনে দেড় শতাধিক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। এর মধ্যে এরশাদের জাতীয় পার্টির কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। যদিও

মনোনয়নপত্র জমার দেয়ার পর জাতীয় পার্টি প্রধান এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন, তবে তার স্ত্রী রওশনের নেতৃত্বে একটি অংশ নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেয়।

(ঢাকাটাইমস