বাঙালিয়ান ডেক্স:

 

 

অবশেষে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেল। এই দুই জোটেই আছে বিএনপি।

এখন সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী। এবং আগামী নির্বাচন জোটবদ্ধ হচ্ছে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং জমা নেয়া শুরু করেছে।

ভেতরে ভেতরে ‘বড়’ দলগুলোর কাছে ‘ছোট’ দলগুলো নিজেদের আসন চূড়ান্ত করতে দেনদরবার শুরু করে দিয়েছে। যদিও আসন বণ্টন নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি কোনো জোটে।

নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে একই আসন বণ্টন হচ্ছে না।

দলগুলোর নেতারা বলছেন, আগে নিজ দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বহু জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

ফ্রন্টের মুখপাত্র এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দেন।

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন জানান, তারা সাত দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্ততি এক সঙ্গে চলাবেন।

নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার একদিন পর আগামীকাল সোমবার থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি দলীয় মনোনয়নে ফরম বিক্রি শুরু করবে।

রোববার নয়াপল্টনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার এবং পরশু মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হবে। ১৩ ও ১৪ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা এবং জমা দিতে লাগবে ২৫ হাজার টাকা।

ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টনের ব্যাপারে গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা দলীয় মনোনয়ন আগেই বিতরণ করেছি। এখন জমা নিচ্ছি। প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করবো। এরপর আমরা ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনায় বসবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে জোটভূক্ত দলগুলো নিজেদের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করবো। তারপর এটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখন তারিখ ঠিক করা হয়নি।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা এখনো মনোনয়ন বিতরণ শুরু করেনি। আগামীকাল সোমবার এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। আমাদের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরে ২০ দলীয় জোটের সাথে প্রার্থী নিয়ে সমন্বয় করা হবে। পরবর্তীতে সেটা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে আলোচনা করা হবে।

সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমি কোনো দলের নই। আমি ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করবো। এখনো ঐক্যফ্রন্টে আসন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। যখন শুরু হবে তখন আমি কোথা থেকে নির্বাচন করবো তা পরিষ্কার হবে।

তিনি বলেন, এখন ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের মনোনয়ন বিক্রি করছে।

জেএসডির সহ সভাপতি তানিয়া রব পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আনঅফিসিয়াল আমাদের দলের মনোনয়ন আগে দিয়ে ফেলেছি। এখন তারা নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন বিন্যাস নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। হয়তো দুই একদিনের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে।

নাগরিক ঐক্যের সদস্য আতাউর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা সোমবার মিটিংয়ে বসবো। তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।

এদিকে, ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত আটটি দলকে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এক চিঠির মাধ্যমে এ অনুরোধ জানানো হয়।

দলগুলো হলো— বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

এছাড়া রোববার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের অন্যমত শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জানিয়েছেন, ২০ দলীয় জোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথেও তারা নির্বাচনী সমঝোতা করবেন।

 

পরিবর্তন