প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৮,

মানহানির মামলায় সমন জারি না করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে মানহানির মামলায় গ্রেফতার প্রসঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির টকশোতে এমন মন্তব্য করেন তিনি। টকশোতে আরও অংশ নেন ইকোনমিক টাইমসের সম্পাদক শওকত মাহমুদ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল।

টকশোটিতে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে আবু আবদুল্লাহ বলেন, মামলা হওয়ার পরে এটা আদালতের এখতিয়ার যে, আসামিকে সমন না গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন। এখানে  মইনুল হোসেন আইনজীবী হয়েও একজন নারীকে লাইভ টকশোতে ‘চরিত্রহীনা’ বলতে পারেন কিনা- এর গুরুত্ব বুঝতে হবে, কতো বড় অপরাধ এটা। যেহেতু মামলাটির গ্রাভিটি অব অকারেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সমগ্র নারী জাতিকে অবমাননা করা হয়েছে,  সেহেতু হয়তো আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

তবে সাংবাদিক শওকত মাহমুদ মনে করেন, মানহানির মামলায় সাধারণত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় না, সমন জারি হয়। সেই সমনে যদি আসামি হাজির না হন, তাহলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তার বিরুদ্ধে যে দুটি মামলা হয়েছে, সেগুলোতে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। কিন্তু রংপুরে যে মামলাটি হয়েছে, সেটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

কিন্তু মাসুদা ভাট্টি সম্পর্কে মইনুল যে মন্তব্য করেছেন, কাউকেই এভাবে চরিত্রহীন বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন শওকত মাহমুদ।

সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে প্রশ্নের বিপরীতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার বিষয়টিকে নিন্দনীয় বলে মনে করেন সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলও। তিনি বলেন, মইনুল হোসেন সেদিন যে কাজটি করেছেন, সেটি ভীষণ গর্হিত কাজ। দাবি অনুসারে তিনি যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে বিষয়টা মনে হয় এতদূর গড়াতো না।

জাকারিয়া বলেন, ‘মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে ফোন করলেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাননি। উল্টো তিনি মাসুদা ভাট্টিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন যে, তাকে কেন জামায়াতের সঙ্গে লিংক করানো হলো। সেদিনের প্রশ্নে কোথাও কিন্তু মইনুল হোসেনকে জামায়াতের লোক বলা হয়নি। প্রশ্নটা ছিল, জনশ্রুতি আছে যে, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছেন কিনা। মইনুল হোসেন হ্যা না বললেই পারতেন। কিন্তু তিনি যেভাবে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন, এই ক্ষিপ্ত হওয়া দেখেই হয়তো মনে হচ্ছে, তিনি এটা ধারণ করেন। পাশাপাশি শিবিরের অনুষ্ঠানে মইনুল হোসেনের বক্তৃতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। একটা ঘটনা ঘটলে আমাদের দেশে অতীতের অনেক কিছু নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি হয়।’

মইনুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যতগুলো মামলা হয়েছে, তার সবগুলোই কি মানহানির ক্ষোভ থেকে নাকি এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?- সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া কাজল বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, এটা মন্ত্রীরা বলেছেন। তবে অতীতে এমনটি কখনো দেখা যায়নি যে, কোনো একটা ঘটনার জন্য এতগুলো মামলা হয়েছে।’

তবে একই প্রশ্নের জবাবে শওকত মাহমুদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের মামলা দেয়ার উৎসাহ দিয়েছেন। এর দুই তিন ঘণ্টার মধ্যে মইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  এখানে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে মইনুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা এবং তিনি যে কাজটি করেছেন এর পিছনে যে রাজনীতি নেই, সেটা বলা যাবে না।

একই বিষয়ে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতগুলো জায়গায় যে অনেকগুলো মামলা হয়েছে, সেটা কতটুকু যৌক্তিক- সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে আবু আবদুল্লাহ বলেন, এখানে মইনুল যে ধরনের কটূক্তি করেছেন, এতে তিনি পুরো নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এখানে মাসুদা ভাট্টি হলে এক জায়গায় মামলা করতেন। কিন্তু এখন সবাই সংঘবদ্ধ হয়েছেন, তাই একাধিক জায়গায় মামলা করেছেন।

শওকত বলেন, ‘সরকার যে অবস্থানে রয়েছে, এখানে মইনুল হোসেনের এমন বক্তব্যকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু অপরাধের মাত্রাটা এমন ব্যপকতা পেয়েছে এবং বিবৃতির মাধ্যমে এমন জায়গায় গিয়েছে যে, সরকারও এটার সুযোগ নিয়েছে। এখানে আমি সরকারের অবস্থানটিকে অতি প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছি।’

এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাসুদা ভাট্টিকে মইনুল হোসেনের কটূক্তির বিষয়ে বিএনপি কিন্তু কিছু বলেনি। বিএনপি দাবি করছে যে, মইনুল হোসেনের গ্রেপ্তারটা আইনানুগ হয়নি। আমার মনে হচ্ছে যে, বিষয়টিতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে।’

সূত্র: ঢাকাটাইমস