নিজস্ব প্রতিবেদক মোহাম্মদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর ঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দিনাজপুর ৪-আসন (চিরিরবন্দর-খানসামায়) ১৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা-৯ দিনাজপুর-৪ আসন চিরিরবন্দর-খানসামা। এরা নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফর্ম উত্তোলনের পর জমা দিয়েছেন।

নির্বাচনী নিজ নিজ দলীয় সূত্র থেকে জানাগেছে, আওয়ামীলীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি, সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু, ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে অর্থোপেডিক ডাঃ এম আমজাদ হোসেন,দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের বন-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো: তারিকুল ইসলাম তারিক, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এডঃ সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আহসান হাবীবসহ মোট ৬ জন।

 

বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া ও শিল্পপতি মোঃ হাফিজুর রহমান,চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন মোল্লা, জাগপা নেতা মো:আশরাফ আলী খান,ব্যবসায়ী আব্বাস আরেফিনসহ মোট ৫ জন।

জাতীয় পার্টি খানসামা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবদুল আলীম হাওলাদার ও জাতীয় পাটির সাবেক ছাত্রনেতা ও আহ্বায়ক মোনাজাত চৌধরীসহ মোট ২ জন।

বাম দল গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস পাটির্র দিনাজপুর জেলা কমিটির সংগঠক এড: রিয়াজুল ইসলাম রাজু, ও বাসদের খানসামা উপজেলার মার্কসবাদী কমিটির সদস্য এড: সাজেদুল আলম চৌধুরীসহ মোট ২ জন।

নিজ নিজ দলীয় চুড়ান্ত মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাসহ মনোনয়ন বোর্ডের নেতৃবৃন্দের কাছে লোবিং করছেন অনেকেই ।এ মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। তৃণমূল নেতাসহ ও সাধারণ জণগনের মধ্যে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা।

চলছে চায়ের দোকানে দোকানে ঝড়। তাদের মতে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পাটি জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মাঠে সুবিধা করতে পারবেনা বলেও কেউ কেউ বলছেন। আবার কেউ বলছেন, জামাতের বেশ দাপট রয়েছে এ আসনে। এ কারণে এ আসনটি বিএনপি উদ্ধার করতে পারে।

আওয়ামীলীগে এ আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পুনরায় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যাপক উন্নয়ন করায় সাধারণ জণগন ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি বেশ দূর্বল। পুনরায় তার মনোনয়ন ও জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। তবে এলাকায় সকলে বিশ্বাস করেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় তাকেই মনোনয়ন দেবেন। তার পক্ষে চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল ও খানসামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন,উপজেলা চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান শাহ্ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

অপরদিকে সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মো. মিজানুর রহমান মানু ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: সাইফুল ইসলামও নির্বাচনী মাঠ গরমে সক্রিয় রয়েছেন। নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তারাও নিয়মিত যোগাযোগ ছাড়াও বিভিন্ন হাট-বাজারে নৌকায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরন করে গন-সংযোগ চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন তারা।

এছাড়া চিরিরবন্দর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা এবং ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট চিরিরবন্দর আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা: এম আমজাদ হোসেন নতুন মুখ হিসেবে জনসর্মথন তৈরী করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মাঠে-ঘাটে গণসংযোগ করেই চলছেন। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে দৃষ্টি কেড়েছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ও মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. এম. আমজাদ হোসেন। তিনিও মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে তিনিও লবিং শুরু করেছেন।

অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ও সাবেক জামাত নেতা,চিরিবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তারাও মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা এই আসনের বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রায় প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে থাকায় নেতাকর্মীরা তার প্রতি বিশ্বস্থতায় রয়েছেন।

এছাড়াও লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি মোঃ হাফিজুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা নেতা মো: আশরাফ আলী খান, বাংলাদেশের কমিউনিস পাটির্র এড: রিয়াজুল ইসলাম রাজু, ও বাসদের এড: সাজেদুল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন তাদের নেতাকর্মীরা ।

জাতীয় পাটির দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। খানসামা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবদুল আলীম হাওলাদার ও জাতীয় পাটির সাবেক ছাত্রনেতা ও আহ্বায়ক মোনাজাত উদ্দিন চৌধরী।