আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্ততি নিয়ে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ চুড়ান্ত হয়নি। ৩০ অক্টোবর কমিশন আরেকটা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তফসিলের তারিখ চুড়ান্ত হবে। সাংবিধানিকভাবে ৩০ অক্টোবরের পর যেকোন সময় কমিশন তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য সাতশ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দও চুড়ান্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক নির্বাচন সামগ্রী ক্রয় করে গুদামজাত করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই অনসব সামগ্রী কেনা হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আগেই ‌তিনশ’ আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজও শেষ করা হয়েছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র। এরমধ্যে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত রাখা হয়েছে যদি দুর্বিপাকের কারণে অনত্র সরাতে হয়। তফসিল ঘোষণার পর জেলাভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আমরা হালনাগাদ  ভোটার তালিকাও সিডিতে করে আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের অবহিত করতে বলা হয়েছে।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) মেশিন ব্যবহারের প্রস্ততিও থাকবে। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইন সংশোধন হলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম নিয়ে অজ্ঞতা কাটাতে  আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের ৯টি স্থানে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে দু’দিনব্যাপী ইভিএম মেলার আয়োজন করা হবে।

আগামী নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন,, এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে হিজড়াদের জন্য আলাদা কোনো কলাম থাকবে না। এক্ষেত্রে তাদের জন্য আগের নিয়মই বহাল থাকছে। নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অনলাইন এবং নিজস্ব সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রতিবারের মতো এবারের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিশেষ করে ফেমবোসা অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর কর্মকর্তাদের আমরা বিশেষ আমন্ত্রণ জানাবো।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভা বর্জন বিষয়েসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন,  মাননীয় কমিশনার কমিশন সভায় নির্দিষ্ট এজেন্ডার বাইরে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওসব বিষয়ে তিনি কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান কমিশনার ও তিন কমিশনার বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করতে সম্মতি না জানালে  তিনি বৈঠকে যোগ দিলেও পরে বর্জন করেন। এতে সভায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। আশা করি আগামী বৈঠকগুলোতে সব কমিশনাররাই উপস্থিত থাকবেন।