বাঙালিয়ান ডেক্স:

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীতে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে সংশোধিত আইনের অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এখন এটি এখন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে আর পরবর্তীতে সংসদে এটি অনুমোদন করা হবে।

বুধবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় সংসদে আরপিও সংশোধনী বিল আকারে পাস হলেও ভেটিংয়ে কিছুটা দেরি হওয়া এবং সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে কার্যদিবস কম থাকায় এটি অধ্যাদেশ আকারেই জারি হলো।

সংশোধনী আরপিও অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ, ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিলের বিধানসহ আরও কিছু ছোটখাট সংশোধনী হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট নির্বাচন কমিশন আরপিও সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করে ৩ সেপ্টেম্বর তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আর গত সোমবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রিসভা আরপিও সংশোধনী আইনের অনুমোদন দেয়।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আরপিও সংশোধনীতে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন। এছাড়াও সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকা অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলও সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেসব বিষয়ে সংলাপ করতে যাচ্ছে তার মধ্যে ইভিএম প্রসঙ্গও আছে। বিএনপি এবং তার শরিকরা মনে করে এই যন্ত্র ব্যবহার করে ভোটে কারচুপি করা সম্ভব।

অবশ্য এই আপত্তিতে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্পে সায় দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা এবার কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করতে চায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভোটগ্রহণে ব্যালটের পদ্ধতি বাতিল করে এই যন্ত্র ব্যবহার করতে চায় তারা।

ঢাকা টাইমস