নাট্যকর্মী এম ফাহিম ফয়সাল স্মরণ । অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়ে নিজেকে চিনিয়েছেন। সম্প্রতি পেলেন ‘মফোসোল মিডিয়ার ‘২০১৮’ সম্মাননা। কাজ করছেন চেনেল আই,ATN বাংলা সহ বিভিন্ন ইউটিউব চেনেলে অভিনেতা শিল্পি হিসেবে। নাটক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হলো The Bangalion অনলাইন নিউজ প্রতিনিধির সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশিকুল ইসলাম আকাশ।

অভিনন্দন। সম্মাননা পেয়ে কেমন লাগছে?

স্বীকৃতি সব সময়ই ভালো লাগে। আর স্বীকৃতিটা যদি নামাঙ্কিত থাকে বিশেষ কারও নামে, সেটা একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। প্রণোদনা আমার কাছে এমন নয় যে এখন থেকে খুব বেশি কাজ করতে হবে। কাজের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তাহলে প্রভাবটা কোথায়? এটা প্রভাবিত করে আমার বন্ধুজন, পরিবারের লোকজনকে। তারা যখন এটা দেখে খুশি হয়, তখন মনে হয় এই প্রণোদনার একটা মানে আছে। আসলে থিয়েটার তো প্রত্যক্ষভাবে খুব কম ‘বেনিফিট’ দেয়। পরোক্ষভাবে তার একটা বিশাল প্রভাব থাকে। বাইরের লোকজন এটা বোঝে না। তারা মনে করে, জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল। এসব সম্মাননা দেখলে তারা ভাবে, আমার সময় বৃথা যায়নি। তাঁরা আনন্দ পান। তবে এর জন্য আমার কাজের গতি বেড়ে যাবে কিংবা কমে যাবে—এমনটি নয়। কারণ, কাজই আমাকে প্রণোদিত করে।

থিয়েটারের শুরুটা কখন?

এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। তখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। ছোট ছোট সংগঠন ছিল। ওগুলোর সঙ্গে কাজ করতাম।প্রায় প্রায় ক্লাস পালিয়ে শাহীন হলে সিনেমা দেখতে যেতাম । মিডিয়ার কাজ করা আমার স্বপ্ন ছিল।এর মধ্যেই এলাকায় কিছু নাটক করেছি।
একদিন ফেইসবুকে অভিনয় শিল্পি জাকির হোসেন জীবন ভাই এর সাথে পরিচয় হলো।জীবন ভাইয়ের থিয়েটার আছে। একদিন তার ডাকে একটি নাটকের এক মহড়ায় আসি। এরপর জীবন ভাই আমাকে কিছু ডায়লগ বলতে বললেন । যখন সেটি করলাম, তখন জীবন ভাই বলেছিলেন, ওর কণ্ঠ ভালো, ওকে দিয়ে হবে। এই শুরু। তবে গ্রুপ থিয়েটারচর্চা গাজিপুরের কালিগঞ্জ উপোজেলার রায়ের দিয়া মোফোসল মিডিয়া তে থিয়েটারের হয়। ওদের শৃঙ্খলা দেখে ভালো লেগে যায়।

ঢাকায় কাজ শুরু করলেন কীভাবে?

প্রথমে শুকনো পাতার নুপুর ধারাবাহিক নাটক দিয়ে শুরু করি।

আপনার নির্দেশিত প্রিয় নাটক কী? এবং অভিনয়ে প্রিয় চরিত্র কোনটি?

সব কটি নাটকই প্রিয়। প্রত্যেকটি নাটকই আমি উপভোগ করেছি। যেহেতু আমার প্রথম প্রযোজনা শুকনো পাতার নুপুর। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটার একটা ভিন্ন ইন্টারপ্রেটেশন আমি করেছি। আর প্রিয় চরিত্র হৃদয় ভাইয়ার Abnormal Affair নাটকের লাইভ সুটিং চরিত্রটি। ওটা আমাকে খুব ভাবিয়েছে।

এই সময়ে থিয়েটার দর্শকখরায় ভুগছে। এমন কথাবার্তা শোনা যায়। আপনার মত কী?

এটা একতরফাভাবে বলা যায় না। দর্শকের খরা আছে। তবে এটাও সত্য যে ভালো নাটক হলে মিলনায়তন ভরে যায়। নাটকের মতো একটা আর্টের ক্ষেত্রে আমি কখনোই প্রত্যাশা করি না যে একেবারে গণদর্শক এসে ভরে যাবে। কারণ মঞ্চনাটক দেখার জন্য ভেতরে একটা বোধ তৈরি হতে হবে। এটা না হলে এ ধরনের আর্ট দেখার অভ্যাসটা আসলে গড়ে ওঠে না। সামাজিকভাবে একটা মূল্যবোধের জায়গা তৈরি হলে আর্ট দেখার এমন অভ্যাস তৈরি হয়।

এ ক্ষেত্রে কি প্রচারের একটা কমতির কথা বলা যায়?

এটা একটা বড় অংশ। এখানে প্রচারের জায়গাটা অন্যান্য মাধ্যম যেভাবে উন্নত করছে, থিয়েটারটা সেভাবে করতে পারেনি। প্রচার মাধ্যমকে আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারিনি।

কয়টি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন ও অভিনয় করেছেন?

প্রায় বেশ কয়েকটা নাটক ও মিউজিক ভিডিও তে নির্দেশনা দিয়েছি।আর অভিনয় করেছি শুকনো পাতার নপুর,Abnormal Affair,Tarzan The Hero Alom,পুরোনো চিঠি,বাঘা বাসেদ,চলো পাল্টাই উল্লেখযোগ্য।

এই সময়ের থিয়েটারে সংকট ও সম্ভাবনা কী?

সংকট হলো—আমাদের প্রজন্মের সময় কমে গেছে। প্রতিনিয়ত তাদের সময় চুরি হয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের একটা সুযোগ আমাদের আছে। কিন্তু এটা আমরা কীভাবে গ্রহণ করব, এর মধ্যে তা নিয়ে গলদ আছে। থিয়েটারের মতো একটা ধ্রুপদি শিল্প দীর্ঘদিন চর্চা করে করতে হয়। কিন্তু একটা ছেলের বড় সংকট হলো—সে এক কি দুই বছর নিয়মিত থিয়েটারে সময় দিল। পরবর্তীকালে রুটিরুজির জন্য যখন কোনো একটা কাজে তাঁকে ঢুকতে হয়, তখন সে আর সময় দিতে পারে না। আর সম্ভাবনার জায়গা হলো, এর মধ্য দিয়েও অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার পড়ানো হচ্ছে। এটা একটা দুর্দান্ত সম্ভাবনা। অ্যামেচার থিয়েটারের প্র্যাকটিসের থেকে এখন সমৃদ্ধ একটা জায়গার দিকে যাচ্ছে। নতুন চিন্তার জায়গা তৈরি হচ্ছে।

তরুণ নাট্যকর্মীদের উদ্দেশে কী বলতে চান?

থিয়েটার আসলে স্বল্প সময়ে করার কাজ নয়। এটা একটা দীর্ঘ চর্চার কাজ। যদি ভালো লাগে, তাহলে মনোযোগ দিয়ে কাজটা করা জরুরি। সে যেখানে যেতে চায়, কাজটাই একটা সময় তাকে সেখানে পৌঁছে দেবে। সফলতার পেছনে দৌড়ানের দরকার নেই। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় আপনা-আপনি পৌঁছে যাবে।