একই দেশে বসবাস, সার্টিফিকেট মূল্যায়ন পরিক্ষায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই তারা,তারাও মানুষ, শিক্ষা জীবন শেষে পরিবারের হাল ধরতে বেঁচে নিয়েছে বে সরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলো। বেতন ভুক্ত শিক্ষকদের মতোই তাদের সংসার আছে পরিবার আছে, আছে পরিবারের চাহিদা, একটা সময় কিন্ডারগার্টেনের মাষ্টার এই কথাটা লোকে তাচ্ছিল্যে করে বললেও এখন হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন তারা।

এখন জীবনের ভার বইতে চরম বেকায়দায় আছেন তারা। করোনা কালীন জীবনের চরম বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে ,প্রসঙ্গ উঠলেই জানতে চান এভাবে আর কত দিন? একই মহল্লায় বাড়ি, পাশাপাশি থাকেন,একজন সরকারি কিংবা এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাদের জীবনে নূন্যতম কোন প্রভাব ফেলেনি করোনা সংকট,বরং প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগে অনেকেই ভিন্ন কিছু করছেন,অথচ তারই পাশে সর্বোচ্চ ডিগ্রি ধারী আরেকজনের জীবন কাটছে চরম হতাশা আর ধারদেনা করে। অনেকেই স্কুল কবে খুলবে সে আশায় না থেকে লাজ লজ্জা ভুলে অন্যের দোকানে কিংবা লোক চক্ষুর দূরত্বে মজুরের কাজ করছেন।

বলছিলাম, দিনাজপুর জেলার শিক্ষার শহর খ্যাত চিরিরবন্দর উপজেলার কথা। মাত্র ১ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা প্রায় ১২ টি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার শিক্ষক কর্মচারীদের ।

করোনা সংকটের প্রায় ১৮ মাস পেরিয়ে গেছে, প্রথম দিকে স্কুল কতৃপক্ষ কিছুটা সহযোগিতা করলে ও বর্তমান পরিস্থিতি একবারে নাজুক।ড্যাফোডিল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক (শিক্ষা) আকরাম হোসেন জানান প্রথম ৬ মাস আমরা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করেছি, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের থেকে আয় শূন্য হয়ে গেছে,প্রতিষ্ঠান আনুষাঙ্গিক খরচ চলা কঠন হয়ে পড়েছে, আপাতত আমাদের পক্ষে আর কিছুই করার নেই। চিরিরবন্দরে এসব প্রতিষ্ঠান কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবাসিক ভবন গুলো এখন খালি প্রায়, বড় অংশ ইতিমধ্যে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। চরম হতাশায় নিমজ্জিত এ সকল শিক্ষকদের পাশে সরকারি কোন সহায়তা না থাকায় অনেকেই শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা ভুলে বেঁচে থাকার তাগিদে ভিন্ন পেশা বেঁচে নিয়েছেন।

মন্জুর আলী শাহ দিনাজপুর প্রতিনিধি, বাংলা টিভি