আজ বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার গল্প নিয়ে নির্মিত ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ তথ্যচিত্রটি। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) ৪ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ই নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ ডকুফিল্মের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্টিত হয়। ৭০ মিনিটের ডকুফিল্ম পরিচালনা করেছেন অ্যাপল বক্স ফিল্মসের পিপলু খান। সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষে ডকুফিল্মটি প্রযোজনা করেছেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু।

তথ্যচিত্রটির একপর্যায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী সময় নিয়ে কথা বলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। ’৭৫ পরবর্তী দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জাতির জনকের কন্যা শেখ রেহানা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে এটা তো ধারণারও বাইরে ছিল’।

তিনি আরও বলেন, ১৪ আগস্ট যাদের সাথে রাতে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করলাম তারাই ঠিক পরদিন আমাদের দু-বোনকে আর চিনলোই না। এমনকি আমাদের যাওয়ার গাড়ী পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মুখের উপর বলে দিলেন গাড়ী নষ্ট। মানুষ কিভাবে অল্প সময়ের মাঝে সব ভুলে যায় ।

জার্মানি থেকে ভারতে আসা প্রসঙ্গে শেখ রেহানা জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে ২৫শে অগাস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ রেহানা, শেখ হাসিনা, ওয়াজেদ মিয়া এবং তাদের দুই সন্তান জয় ও পুতুল।

বিমানবন্দর থেকে তারা যান নয়াদিল্লির ডিফেন্স কলোনীর একটি বাসায়। ঐ বাসায় ছিল একটি ড্রইং-কাম-ডাইনিং রুম এবং দু’টো শয়নকক্ষ – যার প্রত্যেকটির সাথে একটি করে বাথরুম। ঐ বাড়ির বাইরে না যাওয়া, সেখানকার কারো কাছে তাদের পরিচয় না দেয়া এবং দিল্লির কারো সাথে যোগাযোগ না রাখা – ভারতের কর্মকর্তারা তাদের এই তিনটি পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এ কারণে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং মরহুম ওয়াজেদ মিয়া নাম পরিবর্তন করে মিস্টার তালুকদার, মিসেস তালুকদার ও মিস তালুকদার পরিচয়ে সেখানে থাকতেন বলে তথ্যচিত্রে বলেন শেখ রেহানা।

প্রসঙ্গত, ডকুফিল্মটিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার আবেগঘন কণ্ঠ আর দৃশ্যায়নে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে নৃশংস হত্যাপরবর্তী বিষাদপূর্ণ সময়ে দুই বোনের নির্বাসিত জীবনসংগ্রামের চিত্র। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই ও অ্যাপেলবক্স ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন সাদিক আহমেদ। সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র।

সূত্র: পূর্বপশ্চিম বিডি।