ফাইল ছবি:

বাঙালিয়ান ডেক্স:

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপন করা অস্থায়ী আদালতের রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের রায় জানা থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচলিত মনে হয়েনি বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হাঁটাচলায় অসুবিধার কার খালেদা জিয়ার পায়ের সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে। তাকে কেবিন ব্লক থেকে সিটি স্ক্যান রুমে নেওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে সিটি স্ক্যান করা হয়।

সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নেওয়া হয় এক্স-রে রুমে। পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে দুপুর সোয়া আড়াইটার দিকে তাকে আবারও ৬১২ কেবিনে ফেরত নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, পায়ের ব্যথার কারণে দূর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হচ্ছে। সিটি স্ক্যানের জন্য হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে কেবিন থেকে আনা-নেওয়া হয়।

এ সময় খালেদা জিয়াকে বেশ হাস্যজ্জ্বল দেখা যায়। হাসিমুখেই তিনি বিএসএমএমইউ’র স্টাফ ও নার্সদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়া টেলিভিশনে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পারছেন।

বিটিভি’র খবরের মাধ্যমে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় জানতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সাত বছরের কারাদণ্ডের বিষয়টি জানার পরও তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক, তাকে মোটেও বিচলিত মনে হয়নি বলে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল সূত্র জানায়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে গত ৬ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল জলিল চৌধুরীর অধীনে তিনি ভর্তি আছেন। চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন।

মেডিক্যাল বোর্ডেই পরামর্শেই খালেদা জিয়া আদালতে যাননি জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, মেডিকেল বোর্ড আমাকে জানিয়েছে, বেগম জিয়া এখনও আদালতে যাওয়ার মতো ফিট না।

আদালতকে লিখিত ভাবে আমি তা জানিয়েছি। প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি।