মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান (৩৮)। তিনি পাকেরহাটের আজগার মেম্বার পাড়ার মৃত শমছের আলীর ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাকেরহাটের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান কয়েকজন সুদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী আজিম হাওলাদারকে দেন। পরে আজিম হাওলাদার সেই টাকা শোধ না করে আত্বগোপন করায় সুদ ব্যবসায়ীরা বাবলুর রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে। সেই সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে বুধবার দিবাগত রাতে পাকেরহাটের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আঃ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে তার মুত্যু হয়।

এ বিষয়ে বাবলুর রহমানের ছেলে লাবু ইসলাম বলেন, পাকেরহাটের আজিম হাওলাদারের সাথে আমার বাবার ভাল সখ্যতা ছিল। আজিম হাওলাদার ঋণগ্রস্থ হওয়ায় তার মার্কেট বিক্রি করে টাকা শোধ করবে মর্মে আমার বাবার মাধ্যমে কয়েক জনের কাছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সুদের ওপর নিয়েছিল। পরে আজিম হাওলাদার গোপনে সেই মার্কেটের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে টাকা বায়না নিয়ে তা বিক্রি না করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্বগোপন করায় সুদ ব্যবসায়ীরা সেই টাকার জন্য আমার বাবার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। সুদের টাকার চাপ ও সুদ ব্যবসায়ীদের অপমান সইতে না পেরে অবশেষে আমাদের ছেড়ে আমার বাবা আত্বহত্যা করেছে। আমার বাবার মৃত্যুর জন্য যারা যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।