মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে পাকা বাড়ি পাচ্ছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪১০টি গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এই উপহার পেয়ে খুশি ভূমিহীন পরিবারগুলো।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ৬ ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত বাড়ির কাজ চলছে। কোথাও বা কাজ শেষের দিকে। আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বাসুলী গ্রামের ভূমিহীন গেন বালা বৈশ্য (৪৮) পাটখড়ি ও বাঁশের বেড়া এবং জরাজীর্ণ টিনের চালা একটি বাড়ির সামনে বসে রোদ পোহাচ্ছে। তাঁর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামী মারা যায়। কোন সন্তানাদি না থাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে কুড়েঘরের মত বাড়িতে জীবনযাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা বাড়ি ও দুই শতক জমির খবরে যেন খুশির শেষ নেই তার। খুশিতে কান্নায় জর্জরিত কন্ঠে তিনি বলেন, “বাড়ি পেয়া মুই খুবই খুশি হইছু। মুই স্বপনেও ভাবো নাই কোনদিন ইটের বাড়ি পাইম। প্রধানমন্ত্রীক আর্শিবাদ করেছো।”

একই এলাকার ভুক্তভোগী ৭৪ বছর বয়সী জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “মুই বুড়া (পুরাতন) টিন আর সিনডার (পাটখড়ি) চাটি (বেড়া) দিয়া ঝুপড়ি ঘর করি আছো। বাইরোত ভাত আন্দি (রান্না) খাও। মুই মেলা কষ্ট করি জীবন চালাছো। কয়দিন আগত ইউএনও মোর বাড়িত আসি ছবি তুলি নিছে আর কয়া গেইছে মোক নাকি শেখের বেটি বাড়ি দেছে। যাক ভগবান শেখের বেটির ভাল করুক।

আরেক ভুক্তভোগী খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বিধবা জরিনা খাতুন (৫২)। বিয়ের কয়েক বছর পরেই স্বামী মারা যাওয়ায় ও সন্তানাদি না থাকায় তিনি ভিক্ষা করে ডাঙ্গাপাড়া আশ্রয়নের পার্শ্বে পুরাতন জরাজীর্ণ টিন দিয়ে ছোট ছাপড়া ঘরে জীবনযাপন করেন। আর ছনের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে রান্না করতেন। সামান্য বৃষ্টিতে তার বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় ভাল মত ঘুমাতেও পারতেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাকা বাড়ির কথা শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। তাঁর অনুভূতির কথা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, সরকার হামাক ঘর দেছো, হামরা ঘর পেয়া মেলা খুশি। হামার আর থাকিবার কষ্ট হইবে না। ঝড়-বৃষ্টিতেও আরাম করি ঘুমিবার পারেমো। মুই আর ভিক্ষাও করিম না।

শুধু গেন বালা বৈশ্য, জীতেন্দ্রনাথ ও জরিনা খাতুন নয়, তার মতো খানসামা উপজেলার ৪১০টি দরিদ্র গৃহহীন পরিবার মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে পাচ্ছেন পাকা বাড়ি। এতে উচ্ছ্বসিত তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না”- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক তাদের জন্য পাকা গৃহ নির্মাণের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সময়মতো কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণ কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।