মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী তরিকুল ইসলাম বিনা বেতনে ১৮ বছর ধরে চাকুরি করে আসছে। তবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম শাহ্ এর অবহেলা ও তাল বাহানায় অফিস সহকারী তরিকুল ইসলামকে এমপিও ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গত ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল পাকেরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে তরিকুল ইসলামকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগের পর হতেই অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম শাহ্ এর অবহেলা ও বিভিন্ন তাল বাহানার কারনে আজ পর্যন্ত এমপিও ভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেন নি।

ভুক্তভোগী অফিস সহকারী তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের পর হতেই এমপিও ভুক্ত করে বিল বেতনের জন্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম শাহ্ কে বারবার বলা হলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের তাল বাহানা করে সময় ক্ষেপন করেন। গত দু’মাস আগে বিল করার জন্য অধ্যক্ষ আমার কাছে বিভিন্ন খরচের কথা বলে দুই লাখ টাকা নিয়ে গোপনে পুনরায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আমার চাকুরি এমপিও ভুক্ত করে বিল বেতনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও কমিটিবৃন্দের প্রতি অনুরোধ করছি।

তবে এ বিষয়ে পাকেরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম শাহ্ বলেন, বর্তমানে অফিস সহকারী পদ শূন্য হওয়ায় নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে তরিকুল ইসলামকে ফাজিল শাখার জন্য অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আর ফাজিলের এখনো এমপিও হয় নি। এজন্য তাকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর তার কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের অফিস সহকারী পদে বিজ্ঞপ্তিতে আলিম /ফাজিল/কামিল কোন বিভাগের কথা উল্লেখ করা ছিল না। এটা অধ্যক্ষের টালবাহানা। তিনি নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মোটা অংকের টাকায় আবরো অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেয়ার জন্যই এ ধরনের তাল বাহানা ও মিথ্যাচার করছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কমিটির সাথে কথা বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহত করা হবে।