দেশের পাঁচ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩২জন। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় মারা গেছেন  সাতজন আহত হয়েছেন অন্তত ২৪জন। এছাড়া পাবনা, বাগেরহাট, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জে মারা গেছেন আরও ছয়জন। গতকাল বুধবার বিকাল থেকে  বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনার হেমায়েপুরে মা ও মেয়ে, বাগেরহাটে মোটরসাইকেল আরোহী দুই স্কুলশিক্ষক মারা যান। টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির চাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে দুটি পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৪জন। বৃহস্পতিবার ভোর ও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা  ঘটে।

জেলার কড্ডার মোড় ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আসাদ আলী জানান, সকালে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আলিফ পরিবহন নামের একটি বাস কড্ডার মোড়ে এসে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিবাস ও এর পাশের একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির ত্রি-মুখী সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার ওপর ও মিনিবাসটি পাশের খাদে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এসময় ঘটনাস্থলেই চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত আরো ২০ যাত্রীকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক নারী মারা যায়।

নিহতের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের হাটিপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের স্ত্রী সুমি আখতার আয়েশা (৩৫)।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ সয়দাবাদ এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছে। এতে আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত দুইজন হচ্ছেন, ট্রাক চালক মোরশেদুল ইসলাম (৩৫) বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার আমতলী বড় বাজার এলাকার বাসিন্দা, আর চালকের সহকারী যশোর জেলার কুতুবালী থানার তেতুলিয়া গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে আরিফ হোসেন (২২)।

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী একটি রডবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুইজন মারা যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পাবনা

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বাঙ্গাবড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নছিমন চাপায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।

নিহত দুইজন হলেন, বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের দিন মজুর আকবর আলীর স্ত্রী রিমি বেগম (৪০) ও তার মেয়ে বর্ষা (৮)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভ্যানচালক আকবর আলী। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকালে বাড়ি থেকে নিজের ভ্যানে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শহরে আসছিলেন আকবর। এ সময় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ভ্যানটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার  মেয়ে মারা যান।

গুরুতর আহত হন আকবর ও তার স্ত্রী রিমি। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে  নেওয়ার পর মারা যান রিমি।

বাগেরহাট

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ট্রাকের ধাক্কায় আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তারা দুইজনই স্কুলশিক্ষক।

বুধবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার জয়ডিহি কাহালপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় তারা গুরুতর আহত হন। রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনই মারা যান।

নিহত দুই স্কুলশিক্ষক হলেন, মোল্লাহাট উপজেলার সরোসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দুলাল (৪৫) ও একই উপজেলার সরোসপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল আলম  মোল্লা (৪৩)।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির জানান, মোল্লাহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস  থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দুই শিক্ষক। গোপালগঞ্জ থেকে খুলনাগামী একটি ট্রাক মহাসড়কে তাদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

এতে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে দুইজনই মারা যান।

ওসি আরো বলেন, ট্রাক চালক পালিয়ে গেছে। ট্রাকটিকে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। উপজেলার  নিহতরা সরোসপুর গ্রামের বাসিন্দা। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় আনোয়ার খান নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার খান দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল উত্তরপাড়া গ্রমের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে। তিনি করটিয়া সাদত কলেজের শিক্ষার্থী।

গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, ‘কলেজ শেষ করে আনোয়ার  মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। নাটিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির চাপায় আবদুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি গুরুতর আহত ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায়  নেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের উজানভাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মেয়ে লাকি আক্তার (৩০) আহত হয়েছেন।

ঢাকাটাইমস