নিজস্ব প্রতিবেদক:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় আগাম আমন ধান কাঁটতে শুরু করেছে এলাকার কৃষকেরা। ফসল ভরা মাঠ থেকে ধান কেঁটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলতি মাসেই চিরিরবন্দরে বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ২৩ হাজার ২ শত ৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ৩ শত ১০ হেক্টর জমি। যা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশী ফলন হয়েছে। তবে এবারে পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক হারে ব্যবহারের ফলে রোপা আমন ধানের ভালো ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ।

Exif_JPEG_420

এবারের আমন আবাদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। প্রথম থেকেই কৃষকের মধ্যে ছিল শঙ্কা। প্রথমত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া, দ্বিতীয়ত অনাবৃষ্টি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। আমনের যে টার্গেট তারা করেছিল, তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কাই দেখা দেয়। বর্ষাকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখা মেলেনি। কাঙ্কিত বৃষ্টিপাত না হলেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে সবকিছু মোকাবিলা শেষে মাঠ ঘুরে দেখা যায় আমনের ফলন এবার ভালোই হবে।

তবে উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলা সনের আশ্বিন শেষ হতে না হতেই চারিদিকে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। তবে যে সকল মাঠ উচু এবং আগাম জাতের আলু রোপন করার মতো জমি। সেই সকল জমিতে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। সেই সাথে গৃহিনীরাও বাড়ির আঙ্গিনা ও উঠান তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মদিনা মহল

 

উপজেলার সাতনালা গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে বিনা-৭ ধান চাষ করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকায় বিঘা প্রতি ২০/২২ মন ধান হয়েছে। তাছাড়াও ধানের দামও বেশি। এই মুহুর্তে ধান বিক্রি করলে আমার সবকিছু খরচ বাবদ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ৭/৮ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহামুদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে সঠিক সময়ে ধান চাষ করায় বর্তমান আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার চিরিরবন্দরে আমন ধান চাষ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবারে ফলন বেশ ভাল হবে।

ক্যাপশন: গতকাল বুধবার সকালে রোপা আমনের নমুনা শস্য কর্তন করছেন দিনাজপুর জেলা উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল, ও চিরিরবন্দর কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহামুদুল হাসান।