মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে দুই দিনব্যাপী উদ্‌যাপন করেছেন সূর্য পূজা। স্থানীয়ভাবে এ পূজাকে বলা হয় ছট পূজা। প্রতি বছর কালী পূজার পর শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ তিথিতে নদীর তীরে সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে এই পূজার আয়োজন করা হয়। একে অনেকে সূর্যস্নান বলে থাকেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা এবং আজ শনিবার ভোর রাত থেকে সকালে সূর্য ওঠা পর্যন্ত উপজেলার পাকেরহাট বেলান নদীর তীরে এ সূর্য পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূজার প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার বিকেলে পুণ্যার্থীরা উপবাস থেকে ফুল, প্রসাদসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বেলান নদীর তীরে উপস্থিত হন। সেদিন সূর্যাস্তের ঠিক আগে পুণ্যার্থীরা নদীতে স্নান এবং হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে কুলায় সাজানো প্রসাদ দিয়ে পূজা শুরু করেন।

আর আজ শনিবার সূর্যোদয়ের আগে একই নিয়মে পূজা শুরু করেন তারা। সূর্যোদয় হওয়ার পর সূর্যকে প্রণাম করে স্নান এবং সরবত পানের মধ্যে দিয়ে শেষ করেন সূর্য পূজা। পূজা শেষে একে অন্যকে আবির মাখিয়ে দেন পুণ্যার্থীরা।

পূজোয় অংশগ্রহনকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোবাসনা পূর্ণ, আপদ-বিপদ দূরীকরণসহ বিভিন্ন মানত পূরণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর হরিজন, রবিদাস ও রজক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েকশ’ত পুণ্যার্থী এ পূজো করে থাকে।

খানসামা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, পৃথিবী সৃষ্টির জন্য খ্যাতি, অপ, তেজ, মরুদ ও বম্ এই ৫টি মূল উপাদান। এর মধ্যে পেচ হল অন্যতম। ইহা আসে সূর্য থেকে। তাই সূর্যকে দেবতা হিসেবে আমরা পূজো করে থাকি। এজন্যই প্রতি বছর সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতেই এই পূজা করা হয়। এ পূজার মাধ্যমে সূর্য দেবতা সন্তুষ্ট হয়ে মনোবাসনা ও মানত পূরণ করে দেন।