মোঃ নুরনবী ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে কঠোর অবস্থান যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

গতবছর করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষকে সুস্থ রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স-মিডওয়াইফ, ল্যাব টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্য কর্মীগণ, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকগণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনে করোনা রোগী কম হলেও হঠাৎ বেড়ে যায় করোনা রোগীর সংখ্যা। মঙ্গলবার দুপুরে মোট ২০ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মোঃ মোখতার হোসেন ও মামুনুর রশিদ। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ০৬ জন। এদের মধ্যে সবাই স্থানীয় তবে রংপুর ও দিনাজপুর সফর করেছিল। আর এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট স্যাম্পল নেয়া হয়েছে ৮১০ জন,মোট রোগী ১৪২ জন, মৃত রোগী ০৪ জন,সুস্থ হয়েছেন ১২৪ জন ও চিকিৎসাধীন রোগী ১৩ জন এবং বর্তমান সংক্রমণ হার ৩০%।

ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে থানা পুলিশ সর্বদা মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা ফোকাল পারসন ডা.নারায়ণ চন্দ্র রায় জয় বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চলমান থাকায় তুলনামূলক রোগী কম হলেও হঠাৎ করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ রোধে সচেতন থাকাটা জরুরী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা.শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল ও বরাদ্দ সংকটের মধ্যেও করোনা ঝুঁকি নিয়েই এক ঝাঁক উদ্যমী ও কর্মঠ স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিরামহীন ভাবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। অন্যথায় কঠোর অবস্থান যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।