বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যাচাইয়ে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান কুয়াককুয়ারেলি সাইমন্ডস লিমিটেড (কিউএস লিমিটেড)। এতে এশিয়ার তালিকায় ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছে বাংলাদেশের ছয় বিশ্ববিদ্যালয়। গত বুধবার (২৪ অক্টোবর) নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিশ্ব র‌্যাংকিং ও এশিয়ার র‌্যাংকিংয়ের পৃথক তালিকা প্রকাশ করে কিউএস লিমিটেড।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৭ তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭৫ তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এই দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে স্থান করে নিয়েছে চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ৩০১-৩৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। ৪৫১ থেকে ৫০০ এর মধ্যে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিটিউট অব টেকনোলজি। এরপর যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ক্যালটেক এই স্থানে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
২০১৮ এর র‌্যাংকিংয়ে ১০ম অবস্থানে থাকা সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবার ৭ম স্থানে উঠে এসেছে। অষ্টম থেকে দশম অবস্থানে যথাক্রমে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন।
এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১তম স্থানে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। কিউএস ঘোষিত এশিয়ার তালিকায় সর্বাধিক বিশ্ববিদ্যালয় চীনের। ১১১টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এরপরই রয়েছে জাপান। জাপানের ৮৯টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এই তালিকায়। ভারতের রয়েছে ৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয়। কোরিয়ার রয়েছে ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। এই তালিকায় মালয়েশিয়ার ২৬ বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তানের ২৩, ইন্দোনেশিয়ার ২২, তাইওয়ানের ২০, থাইল্যান্ডের ১১, ফিলিপাইনের ৮, হংকংয়ের ৭, ভিয়েতনামের ৭, বাংলাদেশের ৬, শ্রীলংকার ৪, সিঙ্গাপুরের ৩, ম্যাকাও ও ব্রুনাইয়ের দুটি করে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই র‌্যাংকিং পদ্ধতি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং তৈরি করা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কিউএসের ওয়েবসাইটের ভিজিটর সবচেয়ে বেশি। ২০১৫ সালে প্রভাবশালী গার্ডিয়ান পত্রিকা কিউএস র‌্যাকিংকে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং পদ্ধতি বলে উল্লেখ করে।

মোট পাঁচটি মানদণ্ড যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে গৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রদান করে। পাঁচটি মানদণ্ড হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক খ্যাতি, শিক্ষক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মচারীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা, শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভাগীয় কৃতিত্ব তথা গবেষণা ও অন্যান্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১৫তম বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে কিউএস র্যাংকিং।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।