সুলতান মাহমুদ- দিনাজপুর :

দিনাজপুর হাজী মোহাম্ম্দ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের এমএস শিক্ষার্থী ছাত্রী গবেষনা সহকারি হিসাবে প্রাপ্ত সম্মানী গ্রহণের স্বাক্ষর জালিয়াতি প্রমাণ পেয়েছেন হাবিপ্রবি থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ।

আজ শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাবিপ্রবি রেজিষ্ট্রার বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রফেসার ডাঃ ফজলুল হক ।

তদন্ত কমিটির সুত্রে জানা গেছে গত ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর অর্থায়ানে এবং আই আর টি তত্ত¡বধায়নে প্রফেসর টিএমটি ইকবাল উদ্যানতত্ত¡ বিভাগ ইম্প্যাক্ট অফ কোল মিনিং অন দ্যা কোয়ালিটি অফ কোমনলি গ্রোন ভেজিটেবলস ইন বাংলাদেশ , দিনাজপুর শীর্ষক প্রকল্প পরিচালনা করেন । উক্ত প্রকল্পের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের এমএস ইন এক ছাত্রী গবেষণা সহকারি হিসেবে যোগদান করেন । গবেষণার চলাকালীন সময়ে গবেষণা সহকারী ছাত্রীকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করা হয় । ১২ মাসের ৬০ হাজার টাকা এবং নমুনা সমূহ সংগ্রহ বাবদ আরোও ৫ হাজার টাকা , মোট ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করা করেন । এই মর্মে একটি বিল ভাউচার স্বমনয়ের জন্য আইআরটি তে সাবমিট করেন।

গবেষণা সহকারী এমএস ইন উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের ছাত্রী যোগদান পত্রের স্বাক্ষরের সাথে সম্মানি প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা প্রাপ্তি বিল ভাউচার এবং যোগদান পত্রের স্বাক্ষরের সাথে কোন মিল নাই এবং উক্ত ছাত্রী কোন বিল ভাউচারের কোন কাগজে স্বাক্ষর করে কোন অর্থ গ্রহণ করেন নাই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন । হাবিপ্রবি থেকে তদন্ত প্রতিবেদনে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে স্বাক্ষর উক্ত ছাত্রীর গবেষণা যোগদান পত্রের স্বাক্ষরের সাথে কোন মিল নেই বলে উল্লেখ করেছেন।

দিনাজপুর হাবিপ্রবি প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডঃ ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন , এমএস শিক্ষার্থী গবেষণাকারী ছাত্রী যোগদানপত্র যে স্বাক্ষর করেছে আর বারো মাসে সম্মানী প্রাপ্তি বিলের এবং নমুনা সংগ্রহ বাবদ যে স্বাক্ষর করেছেন তার সাথে কোন মিল নেই ।

হাবিপ্রবি প্রজেক্টর তত্ত¡াবধায়ক টিএমটি ইকবাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কি লিখেছে , না লিখেছে সেটা আমি জানি না । তবে সেই ছাত্রী গবেষণা সহকারী হিসাবে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি বা অর্থ না প্রাপ্তির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়নের কাছে যদি অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি এক রকম।

হাবিপ্রবি আইআরটি পরিচালক প্রফেসর তারিকুল ইসলাম বলেন, গবেষণা সহকারীর ১৩ টি বিল ভাউচার স্বাক্ষর জালিয়ালি তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রমাণিত হয়েছে । জড়িত ব্যক্তি কে চিহ্নিত না করে ইউজিসি কর্তৃক চূড়ান্ত রিপোর্ট গৃহীত হয়েছে । এ রকম যুক্তির প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালকের সম্মানী বিল কিভাবে প্রদান করা হবে তা আমার বোধগম্য নয় । ভবিষ্যতে এসব ভুয়া বিল ভাউচারের দায়ভার কে গ্রহণ করবে।

হাবিপ্রবি রেজিস্টার ডাঃ ফজলুল হক বলেন, ইউজিসির অর্থ হাবিপ্রবি’র আইআরটি কর্তৃপক্ষ দেখ বাল করে থাকেন । তাই উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের এমএস শিক্ষার্থী গবেষণা সহকারী এক ছাত্রীর মাসিক সম্মানী বাবদ ৫ হাজার টাকা করে ১২ মাস ও নমুনা সংগ্রহ বাবদ আরও পাঁচ হাজার মোট ৬৫ হাজার টাকা প্রাপ্তি স্বাক্ষর ছাত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে ।