বাঙালিযান ডেক্স:

 

রাজশাহীতে গরু বিক্রির ১০ লাখ টাকাসহ এক গরু ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যার পর নগরীর সিটি হাট থেকে এই ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বাবুর ভগ্নিপতি আবদুল গাফফার বলেন, জিয়ারুল হক বাবু রোববার দুপুরে তার ব্যবসায়িক অংশীদার আবদুস সবুর, আসাদুল ও নীলশাদের সঙ্গে ১২টি গরু ও মহিষ নিয়ে নগরীর সিটি হাটে যায় বিক্রি করার জন্য। সন্ধ্যার মধ্যে তারা প্রায় ১০ লাখ টাকায় গরু মহিষগুলো বিক্রি করেন। সন্ধ্যার পর টাকা নিয়ে হাট থেকে বেরোনোর সময় অজ্ঞাত কয়েকজন লোক বাবুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

আব্দুল গাফফার আরও জানান, অপহরণের তিন ঘণ্টা পর বাবু একটি মোবাইল থেকে তার ব্যবসায়িক অংশীদার নীলশাদকে ফোন করে কান্নাকাটি করে এবং তার জীবন বিপন্ন বলে জানায়। এরপর থেকেই বাবুর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

বাবুকে অপহরণের পর আরএমপির কাটাখালী ও শাহমুখদুম থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

অপহৃত বাবুর ব্যবসায়িক অংশীদার নীলশাদ হোসেন জানান, ১২টি গরু মহিষ বিক্রির ১০ লাখ টাকা বাবুর কাছে ছিল। বাবু তার মোবাইলটি হাটের একটি দোকানে চার্জ করার জন্য দিয়েছিল। সেই মোবাইলটি আনতে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়।

নীলশাদ আরও বলেন, অপহরণের পর রোববার রাত ৯টার দিকে বাবুর মোবাইল ফোন থেকে তার নম্বরে কল আসে। ওই সময় বাবু কাঁদতে কাঁদতে বলেন আমার টাকা কেড়ে নিয়েছে সব। আমাকে মেরে ফেলে দিল, আমাকে তোমরা বাঁচাও। এটুকু কথার পর মোবাইল সংযোগ কেটে যায়। তার পর থেকে বাবু মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে টাকাসহ ব্যবসায়ী অপহরণের অভিযোগ সম্পর্কে সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, আমি রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হাটে ছিলাম। কেউ এই ধরনের অপহরণের কথা আমাদের বলেনি।

এদিকে সিটি হাট এলাকার থানা শাহমুখদুম থানার ওসি মাসুদ পারভেজ জানান, তিনি মৌখিকভাবে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটি খুঁজে দেখছে।

অন্যদিকে কাটাখালী থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, তার এলাকার একজন গরু ব্যবসায়ীর নিখোঁজের ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত শুরু করবে পুলিশ।

 

যুগান্তর