মাহদী হাসান,কলারোয়া সংবাদদাতা: প্রেমের টানে প্রেমিকার পথ ধরে আত্মহত্যা করলো প্রেমিকও। প্রেমিকা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের পাটুলিয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ইসলাম গাজীর মেয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মুকন্দপুরের মোমিন মোড়লের ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রনি মোড়লের স্ত্রী স্মৃতি খাতুন এবং প্রেমিক শিমুলিয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে আল-আমিন। তারা উভয়ই এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো।

সূত্র জানিয়েছে, বছর তিনেক আগে পারিবারিকভাবে স্মৃতি খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে হয় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রনি মোড়লের। বিয়ের পর থেকে রনি মোড়ল দেশে না ফিরলেও স্ত্রীকে নিয়মিত ভরণপোষণ দিয়ে আসছিলেন। স্মৃতি খাতুন পিতার বাড়ি কলারোয়ার পাটুলিয়া থাকলেও পাশের গ্রাম ঝিকরগাছার মুকুন্দপুরের শ্বশুর বাড়িতেও যাতায়াত করতো। পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া হাইস্কুলে পড়াশুনো করতো সে। স্কুলে যাতায়াতের সূত্র ধরে একই ক্লাসের ছাত্র আল-আমিনের সাথে সখ্য থেকে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরকীয়া অনেক দূর পৌঁছে যায়। বিষয়টি স্মৃতির পিতা-মাতা জানতে পারেন। গত ৯ নভেম্বর সকালে মেয়েকে তার নানা আব্দুল খালেকের বাড়ি কলারোয়ার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে রেখে আসেন। কিন্তু প্রেমের টানে সেখানেও হানা দেয় প্রেমিক আল-আমিন। ওই দিন বিকেলে নানা বাড়ির ছাদে গায়ে আগুন দেয় স্মৃতি। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনায় নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ নভেম্বর রাতে মৃত্যুবরণ করে স্মৃতি খাতুন। মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে যশোরের রূপদিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থানরত আল-আমিন ওই রাতেই বিষ পান করে। তখন তাকে যশোর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে মারা যায় আল-আমিনও।

শনিবার ইশার নামাজের পর শিমুলিয়া গ্রামে আল-আমিনের দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিমুলিয়া ওয়ার্ডেও মেম্বার ইসরাইল হোসেন।

কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মারুফ আহম্মদ জানান, ‘ঘটনাটি তিনি শুনেছেন।’