মোহাম্মদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর :
ছবি: ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক এর হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার গ্রহন করছেন চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।

কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৪ পেয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। রোববার দুপুরে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পুরস্কার তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সফলতার স্বীকৃতিস্বরুপ তাঁকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪ এর রৌপ্যপদক প্রদান করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ১০টি ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের মোট ৩২ জনকে স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ পদক ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ সময় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শিক্ষা জীবনে মাহমুদুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজী বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১১ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। সর্বশেষ ৩ বছর তিনি চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২০ সালেও তিনি দিনাজপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তার সম্মাননা লাভ করেন।

কৃষি মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্মরণিকা থেকে জানা যায়, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধৈঞ্চার চাষ, পোকা দমনে লাইভ পাচিং, ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বৃদ্ধি করে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি। তাঁর অনুপ্রেরণায় উপজেলায় ১৪২৪ সালে ব্রি-৩৪ সুগন্ধি ধানের আবাদ ৩ গুন বৃ্দ্িধ পেয়ে ৯হাজার ৮৬১ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৭৮ হাজার কৃষককে আধুনিক কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করেছেন। উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় রোপন করেছেন ৭ হাজার ৮২৫ টি তালবীজ, ২৬ হাজার ২১৮টি ফলদ বৃক্ষ এবং ২ হাজার ১৯৩টি ওষুধি গাছের চারা রোপন করেছেন। এছাড়াও বিশেষ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় ফল ও সবজি চাষের সম্প্রসারণে দুটি গ্রামকে আমড়া গ্রাম ও সবজি চাষে শতভাগ সফলতা দেখিয়েছেন।

রোববার বিকেলে মুঠোফোনে এই কর্মকর্তা প্রতিবেদককে বলেন, খুবই ভালো লাগছে। কাজের স্বীকৃতি পেলে ভালোই লাগে। তবে এ অর্জন চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের। সহকর্মীদের সহযোগিতা সর্বোপরি দলগতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি শুধু তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এই উপজেলা বর্তমানে খাদ্য শস্যে উদ্বৃত্ত একটি উপজেলা। কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানে মসলা চাষেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা থেকে মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।