নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ছেলে অসুস্থ। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে চাচ্ছিলেন মানবাধিকারকর্মী মা মোছা. জেয়াসমিন আরা পপি, কিন্তু তাঁর স্বামী চাচ্ছিলেন পল্লী চিকিৎসক দেখাতে। এর জেরে পপিকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, তাঁর কাছ থেকে ১৩ মাস বয়সী ছেলেকে কেড়েও নেওয়া হয়। গত শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

পপি দিনাজপুর শহরের কাঞ্চন কলোনি এলাকার মো. নাছিরের মেয়ে ও চিরিরবন্দরের শাহাপাড়া গ্রামের মো. হাসমতের স্ত্রী। তিনি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা এনজিও ‘পল্লী শ্রী’র মাঠকর্মী। তাঁর পোস্টিং পাশের পার্বতীপুরে।

দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পপি অভিযোগ করেন, বাবারবাড়ি থেকে কিছু না দেওয়ার ‘অপরাধে’ বিয়ের পর থেকেই তাঁকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে তাঁর ছেলে নুর জুনকার নাঈম অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসক দেখানো নিয়ে মতবিরোধের জেরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে তাঁকে মারধর করে। এক পর্যায়ে ছেলেকে কেড়ে নিয়ে ঘরে তালা মেরে তাঁকে আটকে রাখে।

মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ফুফাতো ভাই মো. রাশেদ পুলিশ নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সুকুমার রায় ছেলেসহ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয় পুলিশ। পরে ছেলেকে তাঁর কাছে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে কিছুদিনের জন্য বাবার সঙ্গে গিয়ে মায়ের কাছে থাকতে বলা হয়। পরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখান থেকে কাপড়চোপড় নিয়ে ভ্যানে করে বাবার সঙ্গে রওনা দেন। কিন্তু রানীরবন্দর এলাকায় স্বামী, দেবরসহ অজ্ঞাতপরিচয় আট থেকে ১০ জন চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলযোগে এসে তাদের পথরোধ করে। এ সময় মারধরে তিনি, তাঁর বাবা ও ফুফাতো ভাই আহত হন। এক পর্যায়ে ছেলেকে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।

এ অবস্থায় তাঁরা মারধরকারীদের ফেলে যাওয়া পাইপ আর লাঠিসোঁটা নিয়ে থানায় যান। পরে পুলিশের হাসপাতালে ভর্তি হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, ‘তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সূত্র –