মানিক হোসেন চিরিরবন্দর  ঃ
দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লাতে লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা এখন হাঁক-ডাক করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাই শীত জেকে বসার আগে লেপ-তোষক তৈরির ধুম লেগেছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। ফলে লেপ-তোষকের দোকানে বাড়ছে বেচা-কেনা। এসব দোকানের কর্মচারীদের এখন অলস সময় কাটানোর একদম ফুরসত নেই। শুধু লেপ-তোষক তৈরিই নয়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহার্য সামগ্রীতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পাতলা পোশাকের পরিবর্তে অনেকেই মোটা জামার দিকে ঝুঁকছেন। তাই এখন কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম পোশাকেরও। এ ছাড়া শীতের সময় কাঁথা, কম্বল, চাদর বা শাল, শীতের টুপি, হাতমোজা, মাফলার, জাজিম ও কার্পেটের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়ে যায়। ছয় ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা শীতকালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না। গ্রাম-বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘আশ্বিন মাস এলেই শীতের কারণে মানুষের গা শিরশির করে।’ কিন্তু এখন কার্তিক মাসের শেষ ভাগে সকাল হলেই ঘন কুয়াশা আর শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে। সূর্য উঠার ঘণ্টা দুই পরেই আবার বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির এমন রূপ। তখন রোদের তাপে শীতের কুয়াশা দূর হয়ে গরমে ঘাম ঝরছে চিরিরবন্দর এলাকার মানুষের। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারারাত মাঝারি শীতের কারণে বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য পাতলা কাঁথা ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই শীত নিবারণে সাধারণত নির্ভর করেন লেপ-তোষকের ওপর। এ কারণে লেপ-তোষকের কারিগরদেরও শীত আসার আগে থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। প্রতিবছরের মতো এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শীতকে সামনে রেখে এরই মধ্যে চিরিরবন্দরের বিভিন্ন মার্কেট ও সপ্তাহিক হাট গুলোতে গড়ে ওঠা লেপ-তোষকের দোকান গুলোতে বাড়ছে ক্রেতার আনাগোনা। চিরিরবন্দর রাণীরবন্দরের লেপ-তোষকের মার্কেট ঘুরে কারিগরদের আগাম ব্যস্ততার দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল এই শীত এলো বলে! কারিগররা বলছেন, ক্রেতাদের এই আনাগোনা চলবে পুরো শীতজুড়ে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাণীরবন্দরের লেপ তোষকের মার্কেটে ১০টি লেপ-তোষকের দোকানের প্রায় সবকটিতেই ছিল অর্ডার দিতে আসা ক্রেতাদের ভিড়। দোকানিরাও অর্ডার গ্রহণ এবং বিভিন্ন রঙ ও মানের কাপড় ও তুলা দেখাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই দৃশ্য চোখে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। এ বছর লেপের দাম কেমন হবে জানতে চাইলে তুলা ব্যবসায়ীক মিলন বলেন, রেডিমেড লেপ কিনতে খরচ পড়বে- সিঙ্গেল লেপ দেড় হাজার টাকা, সেমি-ডবল লেপ আঠার শ’ থেকে দুই হাজার টাকা, ডবল লেপ পাওয়া যাবে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও শুধু রেডিমেডই নয়, ক্রেতারা তার পছন্দমতো লেপ কারিগর দিয়ে তৈরি করিয়ে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে উনিশ শ’ থেকে আটাশ শ’ টাকার মধ্যে ক্রয় করতে পারবেন ক্রেতারা। তিনি আরও বলেন, তুলার মান ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে লেপ তৈরির খরচ। একটি ডবল লেপ বানাতে ৩ থেকে ৪ কেজি তুলা লাগে। আর লেপ বানাতে সাধারণত কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও লেপ-তোষকের ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এ বছর জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই লেপ-তোষক তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে ৩শ’ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। আর একটি লেপ বিক্রি করে প্রায় একশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত লাভ হয় তাদের। তাছাড়াও অল্প দামের কম্বলও রয়েছে মার্কেটগুলোতে, যা তিনশ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় পাবেন ক্রেতারা।

ক্যাপশন: চিরিরবন্দর রাণীরবন্দর বাজারের ইসহাক তুলা ঘর থেকে তোলা।